টাইফুন বুয়ালোই  ভিয়েতনামে নিহত ১১ ফিলিপাইনে ২৬

ভিয়েতনামের উত্তর-মধ্যাঞ্চল দিয়ে স্থলে উঠে এসেছে টাইফুন বুয়ালোই। গতকাল সোমবার ঝড়টির প্রভাবে দেশটিতে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৭ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। এর পাশাপাশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু এলাকা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। টাইফুনটির কারণে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। জলোচ্ছ্বাস ও বৃষ্টিতে উপকূলীয় অঞ্চলের বহু এলাকা তলিয়ে গেছে।

দেশটির জাতীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে টাইফুনটি এনহে আন প্রদেশে আঘাত হানে। এ সময় বাতাসের বেগ ছিল ঘণ্টায় ১১৭ কিলোমিটার। পরে ঝড়টি দুর্বল হয়ে ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার বাতাসের বেগ নিয়ে প্রতিবেশী লাওসের দিকে এগিয়ে যায়। স্থলে উঠে আসার আগে বুয়ালোই কয়েক ঘণ্টা ধরে ভিয়েতনামের উপকূলরেখা বরাবর এগিয়ে যায়। এতে উপকূলে আট মিটার পর্যন্ত উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়ে। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, হিউ শহরে বন্যার পানিতে ডুবে একজনের, থান হোয়া প্রদেশে গাছ ওপরে পড়ে আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে। কোয়াং ট্রি প্রদেশের উপকূলে প্রবল ঢেউয়ে চারটি মাছ ধরার নৌকা ডুবে ১৭ জেলে নিখোঁজ হয়েছেন।

এর আগে, মৌসুমি ঝড় বুয়ালোই আঘাত হানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনে। এই ঝড়ের আঘাতে বিভিন্ন এলাকায় নিহত হয়েছে ২৬ জন, আহত হয়েছে ৩৩ জন এবং এখনো নিখোঁজ অবস্থায় আছে কমপক্ষে ১৪ জন। এক বিবৃতিতে ফিলিপাইনের দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তর জানিয়েছে, ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিকোল প্রশাসনিক অঞ্চল, কাগায়ান উপত্যকা, কর্ডিল্লেরা প্রশাসনিক অঞ্চল, ল্যুজোন প্রদেশ এবং ভিসায়াস প্রদেশের কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চল। বিকোলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৯ জন, কাগায়ান থেকে ৮ জন, কর্ডিল্লেরা থেকে ৪ জন, ল্যুজোনে ২ জন, ভিসায়াস থেকে ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তর। নিহত, আহত এবং নিখোঁজদের সবাই ভারী বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধসের শিকার হয়েছে। শনিবার আঘাত হানার আগের দিন শুক্রবার ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছিল ফিলিপাইনের বিভিন্ন প্রদেশ এবং অঞ্চলে। শুক্রবার থেকে উদ্ধার অভিযানে নামেন দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা।