গত বছরের জুলাই-আগস্টে গণআন্দোলন দমনে ছাত্র-জনতার ওপর ৩ লাখ ৫ হাজার ৩১১ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা মহানগরে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে ৯৫ হাজার ৩১৩ রাউন্ড। গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্যদানকালে এসব তথ্য জানান শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার তদন্ত কর্মকর্মা মো. আলমগীর। তিনি এ মামলার ৫৪তম সাক্ষী হিসেবে গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো জবানবন্দি দেন। গত রবিবার তিনি জবানবন্দি দেওয়া শুরু করেন। ওইদিন গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের হত্যা ও আক্রমণসহ ১৭টি ভিডিও ট্রাইব্যুনালে জব্দতালিকা হিসেবে উপস্থাপন করেন এই তদন্ত কর্মকর্তা। পরে এই ভিডিওগুলো ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়। আজ মঙ্গলবারও তিনি সাক্ষ্য দেবেন।
জবানবন্দিতে তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর বলেন, তদন্তকালে চলতি বছর ২৫ জানুয়ারি এক স্মারকের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জুলাই আন্দোলন দমনে ছাত্র-জনতার ওপর ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলিসংক্রান্ত ২২৫ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন তিনি সংগ্রহ করেন। প্রতিবেদনে দেখা যায়, অভ্যুত্থানের সময় এলএমজি, এসএমজি, চাইনিজ রাইফেল, শর্টগান, রিভলবার ও পিস্তলসহ বিভিন্ন মারণাস্ত্র ব্যবহার করে ঢাকায় ৯৫ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে ব্যবহার করা হয়েছে ৩ লাখ ৫ হাজার ৩১১ রাউন্ড গুলি। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থী হত্যা, জখম, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সংগ্রহ করে জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম থেকে ৮১ অজ্ঞাতনামা লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনও সংগ্রহ করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর জবানবন্দিতে বলেন, তদন্তকালে সংগৃহীত ও জব্দকৃত আলামত, ভিডিওফুটেজ, অডিও রেকর্ড, বিশেষজ্ঞ রিপোর্ট, শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের জবানবন্দি, এ মামলার আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত পর্যালোচনা করা হয়েছে। সাক্ষী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী পলাতক শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন গত বছরের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন দমনে শান্তিপূর্ণ ছাত্রজনতার ওপরে ব্যাপকমাত্রায় প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন।