বেশ কয়েকটি দেশে ‘জেন-জি’ সফল আন্দোলনের ধারায় উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোতেও চার দিন ধরে আন্দোলন চলছে। দেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নতির দাবিতে রাস্তায় নেমে এসেছে তরুণরা। চলমান এ বিক্ষোভ গত মঙ্গলবার সহিংস হয়ে ওঠে। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও ডিসকর্ডের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ‘জেন-জি ২১২’ নামের একটি অজ্ঞাত গোষ্ঠী আন্দোলনের ডাক দেয়। বিক্ষোভ চলাকালে দক্ষিণের তিজনিত, ইনজেগানে ও আইত আমিরা, পূর্বাঞ্চলের উজদা এবং রাজধানী রাবাতের কাছের তেমারা শহরে বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে পাথর নিক্ষেপ করে। আইত আমিরায় আন্দোলনকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে উল্টে দেয়। তারা একটি ব্যাংকেও আগুন ধরিয়ে দেয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশধারী তরুণরা একটি ব্যাংকে আগুন দেয় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। পুলিশ সেখানে জলকামান ব্যবহার করে। কয়েকটি গাড়ি পোড়ানো হয়, এমনকি একটি বড় সুপার মার্কেটে হামলার চেষ্টাও হয়। তিজনিতে আন্দোলনকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে পাথর নিক্ষেপ করে সেøাগান তোলে জনগণ দুর্নীতির অবসান চায়। এর মধ্যে উজদায় নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ির ধাক্কায় এক বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হয় বলে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এমএপি জানায়। রাজধানী রাবাতে সেøাগান দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ডজনখানেক তরুণকে গ্রেপ্তার করে। মরক্কোর মানবাধিকার সমিতি (এএমডিএইচ) জানিয়েছে, ৩৭ জনকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হলেও তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সংস্থাটির রাবাত শাখার প্রধান হাকিম সাইকুক এ গ্রেপ্তারকে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করেছেন।
এর আগে, কাসাব্লাঙ্কায় রবিবার মহাসড়ক অবরোধ করা ২৪ বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে বিচারিক তদন্ত চলছে। সরকারি জোট এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা তরুণদের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক ও জনপরিসরে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজতে আলোচনায় প্রস্তুত। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর আইনানুগ ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করেছে সরকার। এসব বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।