আওয়ামী লীগ গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে : ডা. জাহিদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘বিএনপি বিশ্বাস করে কোনো অবস্থাতেই গণহত্যাকারী এবং গণদুশমন যারা ছিল, যারা গুম করেছে, যারা মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে, যারা মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে  টাকার পাহাড় গড়েছে, তাদের বিচার এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি, আয়নাঘর বলেন, গুম বলেন, এনকাউন্টার বলেন এবং অট্টহাসি অর্থাৎ প্রতিহিংসাপরায়ণতার যে চরম পরাকাষ্ঠা উনারা দেখিয়েছেন এর বিরুদ্ধে বিএনপি সবসময় সোচ্চার এবং আমরা মনে করি, তারা গণদুশমন।’

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘আজহার-শফিক’ ফাউন্ডেশনের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ডা. জাহিদ এ কথা বলেন। নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস ‘ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম জিটিও’র মেহেদি হাসানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়নি’ বলে যে বক্তব্য রেখেছেন তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ডা. জাহিদ বলেন, ‘মেহেদি হাসানকে প্রধান উপদেষ্টা যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সেটি আপনাদের মতো আমিও পত্র-পত্রিকায় বা মিডিয়ার কল্যাণে কিছুটা পড়া এবং দেখার সুযোগ হয়েছে। উনি বেশ কতগুলো কথা বলেছেন, অমর্ত্য সেন উনাকে কি বলেছেন বা মেহেদি হাসান যে প্রশ্ন করেছেন এবং মেহেদি হাসানের প্রশ্নের উত্তরে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা যেটা বলেছেন যেটা মানুষের মধ্যে একটু, ইভেন আমার মধ্যেও এক ধরনের প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তাদের (আওয়ামী লীগ) বিচার ছাড়া বা তাদের অনুশোচনা ছাড়া আজকে যদি আমরা একাত্তর নিয়ে এত কথা বলি। তাহলে এই ২৪ এ গত ১৫ বছরে দেশের ভোটাধিকার চুরি, দিনের ভোট রাতে করেছে তার জন্য তাদের অনুশোচনা হবে না। এটা তো হতে পারে না। তাদের অবশ্যই আনকন্ডিশনালি জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। যেটা জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে ক্ষমা করবে কী করবে না। এটি ব্যক্তিগতভাবে কারও করার বিষয় আছে বলে আমি মনে করি না।’

জাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মিডিয়ায় আমরা দেখেছি, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদিও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বলেছিল যে, নিষিদ্ধের বিষয়টা, কাকে গ্রহণ করবে বা করবে না এটা জনগণের বিষয়। এটা কোনো অবস্থাতেই আইন আদালত অথবা সরকারি সিদ্ধান্তে যে করার যে প্রক্রিয়া এটার সঙ্গে বিএনপি সবসময় দ্বিমত পোষণ করেছিল।’

আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, যেকোনো সময়ে তাদের নিষেধাজ্ঞা উঠে যেতে পারে সেক্ষেত্রে বিএনপি ভীত কীনা জানতে চাইলে জাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং গণতন্ত্রকাগামী শক্তির যে ঐক্য হয়েছে এই ঐক্য কোনো অবস্থাতেই ভয়ে ভীত হলে ৫ আগস্ট উনি (শেখ হাসিনা) পালাতেন না। উনি যদি সত্যিকার অর্থে রাজনীতিবিদ হতেন তাহলে মাঠে থেকে রাজনীতি মোকাবিলা করতেন। কী হতো? যা হওয়ার সেটা হতো, জেলখানায় যেতেন।’ প্রবীণদের জন্য আলাদা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন অধ্যাপক জাহিদ।

‘আজহার-শফিক ফাউন্ডেশন’-এর সভাপতি এ কে এম শামসুল ইসলাম রঞ্জুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।