বৃষ্টি, জলাবদ্ধতার ভোগান্তির একটি দিন পার করল নগরবাসী। তবে পূজার ছুটি থাকায় এ দিন বেশির ভাগ এলাকাতে তেমন একটা যানজট দেখা যায়নি। গত মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে যায় রাজধানী। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে।
গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুপানি, কোথাও মাঝপথে বাস-রিকশা আটকে থাকতে দেখা গেছে। পায়ে হেঁটে পানি পেরিয়ে নগরবাসীকে যেতে হচ্ছে গন্তব্যে। অনেকে দোকানের ভেতর থেকে সেচ দিয়ে পানি বের করছেন। টানা বৃষ্টিতে সড়কগুলোতে রয়েছে দুর্ভোগের চিত্র।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে গত মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটি এই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি। এর ফলে শহর জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।
রাজধানীর নিউমার্কেট, লালবাগ, ধানমন্ডি, মিরপুর, বংশাল, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, নাখালপাড়া, কাজীপাড়া-শেওড়াপাড়া, কালশী, বিমানবন্দর, গেন্ডারিয়াসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা এখনো জলমগ্ন অবস্থায় আছে। পানি নিষ্কাশন না হওয়ার কারণে এসব এলাকার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। নিউ মার্কেট এলাকায় থই থই করছে বৃষ্টির পানি। সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের হেঁটে যাওয়ার উপায় নেই। এ জন্য রিকশা-ভ্যানে পার হচ্ছেন নগরবাসী।
পুরান ঢাকার বংশাল এলাকার বাসিন্দা হামিদুর রহমান বলেন, বছরের অধিকাংশ সময় বংশাল এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়ে থাকে। প্রতি বছর সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করে ড্রেনেজের কাজ করে সিটি করপোরেশন। তবুও কোনো উন্নতি হয় না। বৃষ্টি হলেই পানি জমে। এই এলাকার মূল সমস্যা যে কোথায়, তা কেউ বলতে পারে না। একদিনের বৃষ্টিতে এক সপ্তাহ পানি জমে থাকে বংশালে। পরে সিটি করপোরেশনের লোকেরা এসে কোনোরকমে পানি সরিয়ে যায়।
মৌচাক এলাকার বাসিন্দা সাজিদা ইসলাম বলেন, সকালে বাসা থেকে বের হয়ে দেখি সড়কে হাঁটু সমান পানি। অফিসে যাওয়ার জন্য কোনো পাবলিক বাস পাচ্ছিলাম না। জলাবদ্ধতার কারণে যানজট আরও বেড়ে যাওয়ায় এ সমস্যা হয়েছে। ৩০ টাকা রিকশা ভাড়া ১০০ টাকা চাচ্ছিল। উপায় না পেয়ে ৮০ টাকা ভাড়া দিয়ে অফিসে গিয়েছি।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট জলজট নিরসনে কাজ করছে বলে জানায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। ঢাকা দক্ষিণ সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাসেল রহমান বলেন, রাতেই পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু হয়েছে। তবে এলাকাগুলোর পুরনো ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা আমাদের কাজকে ব্যাহত করছে। তা ছাড়া এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নত করার কাজ চলমান।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, উত্তর সিটির কিছু এলাকায় সাময়িক জলজট সৃষ্টি হয়েছে, তবে সেটা সিটি করপোরেশনের লোকজন তাৎক্ষণিক নিরসনে কাজ করছে। একই সঙ্গে গত বছরের তুলনায় এবার উত্তর সিটি এলাকায় উল্লেখযোগ্যভাবে জলাবদ্ধতা কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি।