অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে অনেক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার ফলে ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ফ্যাটি লিভার রোগ, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যাওয়া, যেমন স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও ডিপ্রেশন ইত্যাদি ঝুঁকি বাড়ে। এটি প্রদাহ বৃদ্ধি করে এবং শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
কিছু মানুষকে হাদিসের রেফারেন্সে একটি কাহিনি বলতে শোনা যায়, যদিও বিশুদ্ধ কোনো সূত্রে সেই ঘটনার বর্ণনা হাদিসে পাওয়া যায় না। ঘটনাটি হলো, একদা এক সাহাবি নিজ সন্তানকে নিয়ে নবী করিম (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমার ছেলে খুব বেশি মিষ্টি খেতে পছন্দ করে, দয়া করে আপনি তাকে বারণ করুন। নবী করিম (সা.) বললেন, তিন দিন পরে এসো। সাহাবি তিন দিন পরে এলে নবী করিম (সা.) তার ছেলেকে বেশি মিষ্টি খাওয়া থেকে বারণ করলেন। নবী করিম (সা.) কেন তিন দিন পরে আসতে বললেন, এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, এই তিন দিনে আগে আমি নিজে মিষ্টি খাওয়া ছেড়েছি, তারপর তাকে নিষেধ করেছি।
কোনো কাজের কথা অন্যকে বলতে হলে আগে নিজে আমল করা উচিত, এ বিষয়টির প্রেক্ষাপটে এ ঘটনাটির অবতারণা করা হয়। অথচ এটি একটি বানোয়াট ঘটনা। এর কোনোই ভিত্তি নেই। এর কোনো সনদও পাওয়া যায় না।
মিষ্টি খাওয়া তো কোনো গুনাহের কাজ নয় যে, তা বেশি খেতে বারণ করার জন্য নিজেকে মিষ্টি খাওয়া ছাড়তে হবে। কোনো বিষয়ে অন্যকে উপদেশ দেওয়া বা নিষেধ করা আর নিজে সে অনুযায়ী আমল না করা বা বিরত না থাকা নিন্দনীয়। কিন্তু এর অর্থ এটা নয় যে, কোনো বিষয় নিজের মাঝে আমল না থাকলে অন্যকে বলা যাবে না, এমনটি ধারণা করা ঠিক নয়। অন্যকে আমলের বা বিরত থাকার উপদেশ দেবে, সঙ্গে সঙ্গে নিজেও আমলের চেষ্টা করবে। কারণ অনেক সময় অন্যকে বলার দ্বারা নিজেরও আমলের তৌফিক হয়। (প্রচলিত ভুল, আলকাউসার, আগস্ট ২০১৮)
লেখক : আলেম ও ধর্মীয় নিবন্ধকার