সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলসহ দেশ জুড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে জোয়ারের পানির উচ্চতা বাড়লেও জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা নেই। কিন্তু উপকূলে শঙ্কা না থাকলেও সাগরের এই নিম্নচাপ স্থল নিম্নচাপ হয়ে ভারতের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ঘটাবে। আর সেই বৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষজ্ঞরা।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের গোপালপুর ও প্যারাদ্বীপের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হবে। কিন্তু স্থল নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার কারণে উত্তর গোলার্ধের স্থল নিম্নচাপ কেন্দ্রের ডান দিকের (রংপুর, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যবর্তী এবং ভারতের দার্জিলিং, আসাম ও মেঘালয়) এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিম্নচাপের প্রভাবে সকাল থেকেই চট্টগ্রাম ও ঢাকার পাশাপাশি রংপুর, দিনাজপুর, সিলেট, বগুড়াসহ প্রভৃতি এলাকায় বৃষ্টির পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় জোয়ারের উচ্চতা বাড়বে। তবে রবিবারের পর থেকে রংপুর ও ভারতের বিহার, আসাম ও মেঘালয় এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা বাড়বে।’
আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিকের এ বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে। আজকের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া ও ফেনী নদীতে পানি বেড়েছে। এ ছাড়া তিস্তা নদীতে আগামী তিন দিন পানি বাড়ার হার অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে উত্তর-পূর্বের সুরমা ও কুশিয়ারায়ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের মুখপাত্র ও নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, ‘নিম্নচাপের কারণে উজানে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়বে। আমাদের কাছে পূর্বাভাস রয়েছে পাশর্^বর্তী দেশ ভারতের আসাম, মেঘালয় ও বিহারে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়বে। আর এতে সবচেয়ে বেশি পানি বাড়ার শঙ্কা রয়েছে আমাদের তিস্তা অববাহিকায়। এর কারণে রংপুর ও দিনাজপুর এলাকার নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যা হতে পারে।’
নিম্নচাপের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া প্রভৃতি এলাকায় বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বাড়বে উল্লেখ করে সাউথ এশিয়ান মেটিওরোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক ড. মোহন কুমার দাশ বলেন, ‘স্থল নিম্নচাপ কেন্দ্রের পূর্বদিকে বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। আর নিম্নচাপটি সোজা ভারতের ওপর দিয়ে সোজা উত্তর দিকে অগ্রসর হবে বলে পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত ঘটাবে। এতে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকার পাশাপাশি দেশ জুড়ে বৃষ্টিপাত হতে পারে।’
আবহাওয়াবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের অভ্যন্তরের বৃষ্টির কারণে দেশে বন্যা হয় না। উজান থেকে আসা পানিতেই বন্যা হয়ে থাকে। এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের মুখপাত্র সরদার উদয় রায়হান বলেন, উজানের বৃষ্টির কারণেই দেশের ৯০ থেকে ৯২ শতাংশ বন্যা হয়ে থাকে। তবে আগামী কয়েক দিন যেহেতু উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে, তাই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা রয়েছে।
যদি উজান থেকে পানির প্রবাহ বেশি থাকে এবং সাগর থেকেও জোয়ারের বাড়তি চাপ থাকে তখন পানি নামতে পারে না বলে মধ্যাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা দেখা দেয়। সাগরের এ নিম্নচাপের কারণে ভাটিতে সাগর থেকে বাড়তি জোয়ারের একটি চাপ রয়েছে। আবার বৃষ্টির কারণে উজান থেকেও পানির প্রবাহ বাড়তে পারে।