নির্বাচনী সমর্থন খুঁজতে বিশ্ব ভ্রমণে মিয়ানমার জান্তাপ্রধান

চার বছরের জরুরি শাসনের পর, জুলাইয়ের শেষদিকে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা দেয় মিয়ানমারের জান্তা শাসক। চলতি বছর ২৮ ডিসেম্বর থেকে বহু ধাপের নির্বাচন আয়োজনের কথা জানান জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং। আর এরপর থেকেই ঘন ঘন বিদেশ সফর করছেন তিনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, মিন অং হ্লাইংয়ের এসব সফর ডিসেম্বরে বিতর্কিত নির্বাচনের জন্য সমর্থন জোগাড় করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে এ পর্যন্ত তিনি যতবার বিদেশ সফরে গিয়েছেন, গত ছয় মাসে তার তুলনায় অনেক বেশি বিদেশ সফর করেছেন। গত ছয় মাসে তিনি চীন ও রাশিয়ায় দুবার করে সফর করেছেন। আর থাইল্যান্ড, বেলারুশ এবং সর্বশেষ কাজাখস্তানে একবার করে ভ্রমণ করেছেন।

এসব সফরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার ভøাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। গত মার্চ মাসে এক প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর থেকেই বিভিন্ন দেশ সফর করার পরিকল্পনা করেন তিনি। ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র মিয়ানমার উপদেষ্টা রিচার্ড হর্সি বলেছেন, এ বছর মিন অং হ্লাইংয়ের ঘন ঘন বিদেশ সফর তার বাড়তি আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন তার বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের হুমকি কমে গেছে, যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান উন্নত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক একঘরে অবস্থা কিছুটা সহজ হয়েছে। জান্তা মুখপাত্র রয়টার্সের মন্তব্যের জন্য ফোনকলের জবাব দেননি। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম মিন অং হ্লাইংয়ের আন্তর্জাতিক সফরগুলোকে প্রথম পাতায় বড় করে প্রকাশ করেছে এবং সেগুলো দেশের জন্য ইতিবাচক উন্নয়ন হিসেবে বর্ণনা করেছে। জান্তা মুখপাত্র জাও মিন টুন রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে বলেছেন, সেনাপ্রধানের সর্বশেষ চীন, রাশিয়া ও কাজাখস্তান সফরে, তিনটি দেশই মিয়ানমারের নির্বাচনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

সেনা অভ্যুত্থান এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর সেনাবাহিনীর দমনপীড়নের পর মিয়ানমারকে একঘরে করে অনেক দেশ। কিছু দেশ মিয়ানমার জেনারেলদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এমনকি ১০ সদস্যবিশিষ্ট দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থা আসিয়ান সম্মেলনেও মিন অং হ্লাইং এবং তার শীর্ষ মন্ত্রীদের নিষিদ্ধ করা হয়।