ক্রমশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক নীতি বদল, যুক্তরাষ্ট্রে বাস করা বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে এড়িয়ে গিয়ে অনেকেই উচ্চশিক্ষার জন্য বিকল্প খুঁজে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বছর আগের চেয়ে কম বিদেশি ছাত্র ভর্তি হতে দেখা গেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয় কমে গিয়ে তাদের মাথায় হাত পড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয় বাজেট কাটছাঁট করেছে। শিকাগোর ডিপল ইউনিভার্সিটি ইতিমধ্যেই ব্যয় কাটছাঁট করার ঘোষণা দিয়েছে। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আগের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। গত বছরে ডিপলে মোট ২১ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল; এর মধ্যে ২,৫০০ জন ছিল বিদেশি। শিকাগোর ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার গত বছরের তুলনায় বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৫৫ জন কম। প্রথম বর্ষের আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও অনেক বেশি কমেছে। এ হার প্রায় ৬২ শতাংশ। ভিসা পেতে সমস্যার কারণে এ বছর শিক্ষার্থী ভর্তিতে ধস নেমেছে।
অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি পরিবর্তনের ফলে দেশটিতে পড়াশোনার আগ্রহ হারিয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের খুঁটিনাটি প্রকাশের যে নিয়ম করেছে, সে কারণেও অনেকে দেশটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। হার্ভার্ডের মতো নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপও বিদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে গত মার্চে ২ হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা কাজে বরাদ্দ তহবিল থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ৮০ কোটি ডলার অনুদান বন্ধ করার পর এই কর্মী ছাঁটাই হয়। নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪২৫টি পদ বাতিল করে দেওয়া হয়। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় বসিয়ে দেওয়া হয় ৬৩০ জন কর্মচারীকে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া অর্থ কমে যাওয়া, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমা ও অন্য আর্থিক অনটনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।