গালওয়ান সংঘর্ষের জেরে পাঁচ বছর ধরে চলা উত্তেজনার পর ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোচ্ছে। ফলস্বরূপ দুই দেশ নিজেদের মধ্যে পুনরায় সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু করতে সম্মত হয়েছে। ভারতীয় এয়ারলাইনস ইন্ডিগো ঘোষণা দিয়েছে, তারা আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে চীনে সরাসরি ফ্লাইট পরিষেবা শুরু করবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর খবর জানানোর ঠিক পরেই ইন্ডিগোর এই ঘোষণাটি এসেছে।
সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্ডিগো ঘোষণা করেছে, তারা আগামী ২৬ অক্টোবর কলকাতা থেকে গুয়াংজু পর্যন্ত দৈনিক নন-স্টপ ফ্লাইট দিয়ে চীনের মূল ভূখণ্ডে তাদের পরিষেবা আবার চালু করবে। এয়ারলাইনটি আরও জানিয়েছে, তারা শিগগির দিল্লি এবং গুয়াংজুর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটও চালু করবে। ইন্ডিগো এই ফ্লাইটগুলো পরিচালনা করতে তাদের এয়ারবাস এ৩২০নিও বিমান ব্যবহার করবে। এই ফ্লাইটগুলো পুনরায় চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য, কৌশলগত ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব এবং পর্যটনকে উৎসাহিত করবে।
সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর বিমান চলাচল পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে দুই নেতাই উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, দীর্ঘ আলোচনার পর দুপক্ষই ঐকমত্যে এসেছে যে, ফের দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু করা যেতে পারে। এই পরিষেবা চালু হলে তা দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করবে। দ্বিপক্ষীয় বিনিময় ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের দিকে এগোবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে দুই দেশের মনোনীত বিমান সংস্থাগুলোর বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত এবং সমস্ত অপারেশনাল মানদণ্ড পূরণের সাপেক্ষে, অক্টোবর মাসের শেষের দিকে ভারত ও চীনের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় শুরু হবে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষের মধ্যে এই চুক্তি ভারত ও চীনের জনগণের মধ্যে যোগাযোগকে আরও সহজ করে তুলবে এবং দ্বিপক্ষীয় আদান-প্রদানকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করতে সাহায্য করবে। সীমান্তে স্থিতাবস্থা ফেরাতে গত বছর থেকে শুরু হওয়া আস্থা-নির্মাণমূলক পদক্ষেপের পটভূমিতে এই সিদ্ধান্তটি এলো। এর আগে, গত মাসে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর নয়াদিল্লি সফরের পর সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় শুরু করার প্রথম ঘোষণাটি এসেছিল।