মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ধুলশুড়া ইউনিয়নের একটি খালে দেখা যাচ্ছে কুমির। প্রায় নিয়মিত দেখা যাওয়ায় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।
খালটি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার চর বংখুরি গ্রাম ও হরিরামপুর উপজেলার ধুলশুড়া, বোয়ালী ও হারুকান্দি ইউনিয়নের কাশিয়াখালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। এই খালের পানি এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ।
চর বংখুরি গ্রামের মাজেদা (২৩) জানান, ‘আমি প্রতিদিনের মতো সকালবেলা খালে পানি আনতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ দেখি একটা কুমির খুব কাছে চলে এসেছে। আমার দিকে তেড়ে আসতে দেখে প্রাণপণে দৌড়ে পালাই। পিছনে তাকিয়ে দেখি সে পাশের একটা হাঁসকে কামড়ে টেনে নিচ্ছে পানির নিচে। এখনো ভয় কাটছে না।’
স্থানীয় জেলেরা বলছেন, খালের পানিতে এখন প্রায় প্রতিদিনই কুমির ঘোরাফেরা করছে। জাল ফেলতে গিয়ে তারা জীবনের ঝুঁকিতে পড়ছেন। অনেকেই এখন আর মাছ ধরতে সাহস পাচ্ছেন না।
এদিকে খাল ঘেঁষে থাকা বাড়ির বাসিন্দারাও চরম ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যেসব পানির ওপর নির্ভর করে চলত গোসল, রান্না, কাপড় ধোয়া, কৃষিকাজের সবকিছু এখন সেই সব কাজ থমকে গেছে। শিশুরা আর খালের ধারে খেলা করতে যায় না। নারীরা হাঁস-মুরগি নিয়েও থাকছেন আতঙ্কে।
স্থানীয়দের দাবি, কুমিরের গতিবিধি দিন দিন বাড়ছে। এখনই যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। কুমিরের অবস্থান সম্পর্কে বন বিভাগকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’