চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ বছর যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মেরি ই ব্রানকো, ফ্রেড র্যামসডেল ও শিমন সাকাগুচি। তারা এই স্বীকৃতি পেয়েছেন ‘পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স’ বিষয়ে যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য। গতকাল সোমবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে বাংলাদেশে সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সুইডেনের নোবেল অ্যাসেমব্লি অ্যাট ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট এ পুরস্কার ঘোষণা করে। নোবেল কমিটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব লাইভে এ ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
নোবেল কমিটি জানায়, বিজয়ীরা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার এক ধরনের নিরাপত্তা প্রহরী, ‘রেগুলেটরি টি সেলস’ শনাক্ত করেন। এ কোষগুলো ইমিউন সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং নিজের শরীরকে ক্ষতি করা থেকে বিরত রাখে। তাদের এ গবেষণায় উঠে এসেছে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কীভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে, যাতে তা নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আক্রমণ না করে। কমিটি আরও জানায়, তাদের এ আবিষ্কারের মাধ্যমে ‘পেরিফেরাল টলারেন্স’ নামের নতুন গবেষণা ক্ষেত্রের সূচনা হয়। এর ভিত্তিতে ক্যানসার ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সাফল্য বাড়ানোর মতো নানা চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নয়ন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে এসব চিকিৎসার কয়েকটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালও চলছে।
গত বছর চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পান ভিক্টর অ্যামব্রোস এবং গ্যারি রাভকুন। তারা মাইক্রোআরএনএ নামে এক ধরনের ছোট আরএনএ আবিষ্কার করেন, যা জিন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নোবেল পুরস্কারের যাত্রা শুরু হয় সুইডিশ রসায়নবিদ ও উদ্যোক্তা আলফ্রেড নোবেলের হাত ধরে। ডিনামাইট আবিষ্কার করে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তার অর্জিত সম্পদ মানবকল্যাণে অসাধারণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতির জন্য ব্যয় হবে। প্রতি বছর চিকিৎসা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে অসামান্য অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। এর মধ্যে চিকিৎসায় পুরস্কার ঘোষণা করা হয় সবার আগে। আজ মঙ্গলবার ঘোষণা হবে পদার্থবিদ্যায় নোবেল বিজয়ীর নাম। আগামীকাল বুধবার রসায়ন, বৃহস্পতিবার সাহিত্য এবং শুক্রবার শান্তিতে নোবেল। অর্থনীতিতে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হবে ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে। বিজয়ীরা পাবেন ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনর (প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ডলার সমমূল্য) অর্থ, সঙ্গে থাকবে ১৮ ক্যারেটের সোনার পদক ও একটি সম্মাননাপত্র। প্রতিটি শাখায় সর্বোচ্চ তিনজনকে যৌথভাবে পুরস্কৃত করা যেতে পারে।