বগুড়ার ধুনট উপজেলার শহড়াবাড়িতে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভাঙনের ফলে শহড়াবাড়ি খেয়াঘাটের দোকানপাট নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে ২৫ বছর আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রোপণ করা বটগাছটি।
তবে এই ভাঙনের কারণ হিসাবে বালুমহালের ইজারাদার থানা যুবলীগ ত্রান বিষয়ক সম্পাদক বেলাল হোসেনকেই দুষছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, যমুনার প্রবল স্রোতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দক্ষিণ পাশে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। খেয়াঘাটসহ ফসলী জমি ক্ষণে ক্ষণে ভাঙছে। খেয়াঘাট থেকে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরে নিয়ে গেলেও কিছু প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধে আশ্রয় নেয়া বসতিরাও আতংকে। গত দু'দিনে প্রায় ৪১০ মিটার ভেঙেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিন হলো ভারি বৃষ্টি এবং ভারতের উজান থেকে পাহাড়ি ঢল হঠাৎ করেই নেমে আসার ফলে যমুনায় পানি বৃদ্ধি এবং ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে শহড়াবাড়ি খেয়াঘাট যমুনায় বিলীন হয়েছে।
শহড়াবাড়ি গ্রামের শফিক জানান, বালু মহালের ইজারাদার যুবলীগ নেতা বিগত আওয়ামী লীগ সরকার থেকে এখন পর্যন্ত বালুমহাল নিয়ে বালু উত্তোলন করেছে। তাকে এলাকা বাসীর পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ২৫ বছর আগে একটি বটগাছ রোপণ করেছিলেন। চরান্চলের মানুষ নৌকার জন্য এই গাছের ছায়ায় জিরিয়ে নেয়। এখানে বালু মহাল করে ড্রেজিং করবেন না। কিন্তু শোনেনি।
ওই গ্রামের বাচ্চু মিয়া জানান, বালু উত্তোলনের ফলে শহড়াবাড়ি স্পারের উত্তর পাশের তিন শত বিঘা জমি গতবছর যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে। এই বালু দস্যুদের আইনের আওতায় আনা হোক।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সোহেল রানা জানান, এর আগেও ভাঙন শুরু হলে জিও ব্যাগ ফেলে কাজ করেছি। হঠাৎ দু'দিন হলো পানি বৃদ্ধি হচ্ছে। এই বন্যায় আবারও দিনে-রাতে দ্রুত কাজ চলছে ভাঙ্গন রোধে। আজ ৯৯ সে. মিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আশা করি দু'দিনের মাথায় পানি কমবে।
তিনি আরও বলেন বিপদসীমার উপরে পানি নেই। নদীর পানি যখন পাড়ের নীচ দিয়ে প্রবাহিত হয় তখনই নদীর ভাঙ্গন শুরু হয়। তবে, কত মিটার নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে তা এখনও হিসেব করা হয়নি। স্থানীয়রা বলছে প্রায় ৪১০ মিটার নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে গত দুদিনে।