দেশ নির্বাচনী আবহে প্রবেশ করলে অপরাধ কমবে

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা কিছুটা কমেছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ঝটিকা মিছিল ও অপরাধের সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমছে। দেশ যখন নির্বাচনী পরিবেশে প্রবেশ করবে, তখন অপরাধ আরও কমে আসবে। কারণ, তখন প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়ে যাবে।

গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে রাজস্ব খাতে ক্রয়কৃত ২০টি নতুন গাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীসহ ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। 

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, একটি মহল নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়। তারা ঝটিকা মিছিল করছে। তবে ২৪৪ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পর থেকে এসব মিছিলের সংখ্যা কমে এসেছে। অপরাধের হারও কমছে। সবাই সহযোগিতা করলে এক সময় এটি পুরোপুরি কমে যাবে। পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, সংখ্যাটা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। কিছুদিন আগে নরসিংদীতে পুলিশের ওপর হামলার একটি ঘটনা ঘটেছে। তবে এটিও ধীরে ধীরে কমে আসবে। 

গত মঙ্গলবার পুলিশের ওপর হামলার প্রতিবাদে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন একটি বিবৃতি দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জনগণ এখন সচেতন হচ্ছে। আপনারা (গণমাধ্যম) যেভাবে প্রচার করছেন, এটি ভালো। জনগণ যখন বুঝবে যে এসব কাজ খারাপ, তখন নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। 

নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের সময় সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব থাকে নির্বাচন কমিশনের, তারপর প্রশাসনের, এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। এছাড়া বড় ভূমিকা থাকে রাজনৈতিক দলগুলোর। তারা মনোনয়ন দিলে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, তবে সবাই মিলে কাজ করলে নির্বাচন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ হবে। তিনি বলেন, যে কোনো নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে জনগণ। তারাই সবচেয়ে বড় শক্তি। তাছাড়া আমাদের দেশের জনগণ নির্বাচন সম্পর্কে খুবই সচেতন। ইতিমধ্যে পাড়া-মহল্লায়, চায়ের দোকানে নির্বাচনের আলাপ-আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে এবং জনগণ নির্বাচনমুখী। জনগণ নির্বাচনমুখী হলে কেউ তা আটকাতে পারবে না। 

উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং ধাপে ধাপে তাদের প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে। সবার প্রচেষ্টা থাকবে নির্বাচন যেন অবাধ, নিরাপদ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। অপরাধের সংখ্যা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা কমে আসছে। অনুষ্ঠানে পুলিশকে ২০টি ডাবল কেবিন পিকআপ হস্তান্তর করা হয়।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘যত গাড়ি দরকার, তার তুলনায় কম আছে। তবে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় ২০০টি গাড়ি ক্রয় করা সম্ভব হয়েছে। এ বছর আরও কিছু গাড়ি কেনা হবে। এছাড়া রাজধানীর ৫০টি থানার মধ্যে ২৫টি এখনো ভাড়া করা ভবনে চলছে। এর মধ্যে পাঁচটি থানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে এবং আরও দুটি থানার কাজ শিগগির শুরু হবে।’

 জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় পুলিশের যানবাহনের সংখ্যা কম। বিশেষ করে ১ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও তৎপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশের ৫২৬টি সরকারি যানবাহন ভস্মীভূত এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যায়। তার মধ্যে ডাবল কেবিন পিকআপ ২৪১টি, মোটরসাইকেল ২১৭টি ও অন্যান্য যানবাহন ৬৮টি। 

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যানবাহন সমস্যা দূরীকরণের মাধ্যমে প্রকৃত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে পুলিশের জন্য ২০০টি ডাবল কেবিন পিকআপ, ১৫২টি মোটরসাইকেল ও ৬৬টি অন্যান্য যানবাহনসহ মোট ৪১৮টি যানবাহন ক্রয় করা হয়েছে। ২০০টি ডাবল কেবিন পিকআপ প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের মাধ্যমে ক্রয় করা হয়েছে। নতুন এসব যানবাহন ও সরঞ্জামের মাধ্যমে পুলিশ অতি দ্রুত জনগণের দোরগোড়ায় কার্যকর ও দ্রুততম সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে এবং দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে।