সেঞ্চুরিতে দিল্লি টেস্ট পঞ্চম দিনে নিলেন ক্যাম্পবেল-হোপ

লক্ষ্য মাত্র ১২১, তাই স্বভাবতই ভারত চেয়েছিল যত দ্রুত সম্ভব ম্যাচটি শেষ করতে। কিন্তু দিল্লির এখনো কঠিন উইকেটে চতুর্থ দিনের শেষে ৬৩ রানে ১ উইকেট হারিয়ে থামতে হয় ভারতকে। জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারতে শেষ দিনেই যেতে হচ্ছে ভারতকে। আর সেটা সম্ভব হয়েছে ক্যাম্পবেল ও হোপের সেঞ্চুরির সুবাদে।

প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ দুই উইকেট ২৫.২ ওভার টিকেছিল। তবু ভারত ফলো-অন করিয়ে তাদের আবার ব্যাটিংয়ে পাঠায়, যদিও তখন মাত্র ৮১.৫ ওভারই বল করেছিল ভারতীয় বোলাররা। হয়তো তারা ভেবেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্রুত গুটিয়ে যাবে, কিন্তু হলো উল্টোটা। জন ক্যাম্পবেল তুলে নেন তার ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি, শেই হোপ করেন আট বছর পর প্রথম শতক, আর শেষ উইকেটে আসে ৭৯ রানের জুটি। শুনতে অবাক লাগলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য এটিই ২০২৫ সালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি।

শেষ উইকেটের জুটি বিপদ ডেকে আনতে পারেনি মূলত দ্বিতীয় নতুন বলের সৌজন্যে। সেই বলেই ৪ উইকেটে ২৯৩ থেকে ১৮ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে উইন্ডিজ। শেই হোপকে আউট করে ধস নামানোর সূচনা করেন মোহাম্মদ সিরাজ। এরপর কুলদীপ যাদব দ্রুত তিনটি উইকেট তুলে নেন।  দিনের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পিছিয়ে ছিল ৯৭ রানে, হাতে ছিল আট উইকেট। ৪৯ ওভার পুরনো বল কোনো সহায়তা দেয়নি ভারতের বোলারদের, তবু তারা প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়। ৮৭ রানে দিন শুরু করা ক্যাম্পবেল বিশাল এক স্লগ সুইপের ছক্কায় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। পুরো ইনিংসে সুইপই ছিল তার ভরসা। কিন্তু প্রথমবার রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হন অনেকটা মুশফিকুর রহিমের মতো।  বল মিস করে হোন সরাসরি এলবিডব্লিউ। রবীন্দ্র জাদেজার রাউন্ড দ্য উইকেট আক্রমণের কারণে দুই প্রান্ত থেকেই বিপদ বাড়ছিল, সেই চাপেই হয়তো ভুলটা হয় ক্যাম্পবেলের। আউট হওয়ার আগের বলেই বাইরে দিয়ে যাওয়া এক এজে তিনি বেঁচে যান।

শেই হোপ এর পর অধিনায়ক রোস্টন চেজকে নিয়ে জুটি গড়েন ৫৯ রানের। কিন্তু দুপুরের পর নতুন বল নিয়েই ম্যাচে ফিরে আসে ভারত। সিরাজই সেই ব্রেকথ্রু এনে দেন। এই উইকেটের সুবাদে ২০২৫ সালের টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় শীর্ষে উঠে যান তিনি। নতুন বল পেয়ে জাসপ্রিত বুমরাও হয়ে ওঠেন বিধ্বংসী, তিনিও তুলে নেন ৩ উইকেট। শেষ উইকেটে জাস্টিন গ্রিয়েভস ও জেয়ডেন সিলসের ৭৯ রানের জুটি ম্যাচটিতে পঞ্চম দিনে ঠেলে দেয়। সিলস ৩২ রানে আউট হলেও গ্রিয়েভস ৫০ রানে অপরাজিত থেকে যান। রান তাড়ায় জোমেল ওয়ারিকানের শিকার হয়ে ৮ রানে ফেরেন যশস্বী জয়সওয়াল। অবশ্য লোকেশ রাহুল আর সাই সুদর্শন ক্রিজে আছেন শেষ দিনে আর ৫৮ রান তোলার জন্যে।