মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার অধিকার কারও নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল। গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর ও সদস্য সচিব সাদেক আহমেদ খান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বেশকিছু অফিসার মানবতাবিরোধী মারাত্মক অপরাধ সংঘটনের দায়ে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। এই ঘটনা নিয়ে প্রচারমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণসমাজের নানা পর্যায় থেকে আমাদের গর্বিত জাতীয় সশস্ত্র বাহিনী এবং এর সদস্যদের সম্পর্কে বিভিন্ন মন্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র প্রতিরোধের রণাঙ্গনে জন্ম নেওয়া আমাদের বর্তমান অকুতোভয় জাতীয় সশস্ত্র বাহিনী।
এতে বলা হয়, স্মরণযোগ্য, গত বছর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকার নিজের দখলদারি শাসন কায়েম রাখতে অতীতের সব প্রথা ভেঙে জাতীয় সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্যকে দলীয় ক্যাডারের মতো ব্যবহার করেছিল যা সশস্ত্র সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে বিনষ্ট করেছে। এই প্রক্রিয়া কেবল সেনাবাহিনী নয়, নিরাপত্তায় নিযুক্ত অন্যান্য পোশাকি বাহিনীর ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত হয়েছিল। সেই বাহিনীগুলোর অনেকের বিরুদ্ধেই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, যাদের ভেতর অনেকে পলাতক এবং কেউ কেউ গ্রেপ্তারও হয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, নেতিবাচক প্রচার ও মিডিয়া মব তুমুল আকারে কেবল সেনাসদস্য ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে। এটা কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, জাতীয় সশস্ত্রবাহিনী এই দেশ, জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রধান ভরসাস্থল। এই বাহিনীকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার দায়িত্ব সরকারসহ সব দেশপ্রেমিক নাগরিকের। কাজেই উক্ত বাহিনীর কতিপয় বিপথগামী সদস্যের অপরাধমূলক কাজের দায় গোটা বাহিনীর ওপর চাপানো যেতে পারে না। অভিযোগসমূহ বিচারাধীন। বিচারের আওতায় থাকা কোনো বিষয়ে ব্যক্তিগত মতামত নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত করবে।