গোমতীর চরে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

গোমতী নদীর দুই পাড়ের চরাঞ্চলে শীতের আগাম সবজি চাষে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। দুই পাড়ের চরাঞ্চল জুড়ে দেখা যাচ্ছে শীতকালীন আগাম সবজি চাষের ব্যস্ততা। 

কেউ ফসলে আগাছা বাছাই করছেন, কেউ পোকামাকড় দমনে ওষুধ ছিটাচ্ছেন, কেউ আবার জমি থেকে শসা, করলা তুলছেন বাজারে বিক্রির জন্য। নদীর পারজুড়ে সবুজ ফসলের সমারোহে প্রাণ ফিরে পেয়েছে চরের জনপদ। 

তবে ঘন ঘন বৃষ্টির ফলে অনেক জায়গায় বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে ফসল ফলাতে হয়েছে। এতে খরচ ও শ্রম দুই-ই বেড়েছে বলে জানান অনেক কৃষক।

মঙ্গলবার কুমিল্লার মুরাদনগর  উপজেলার দড়িকান্দি, শুশূন্ডা আলীরচর, সোনাপুর, দীলালপুর সহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা গেছে, চরের কৃষকরা বিভিন্ন সবজি ক্ষেতের পরিচর্যা করছেন। কেউ কেউ জমি প্রস্তুত করছেন চারা রোপণের জন্য। 

কেউ জমিতে আগাছা পরিষ্কার করছেন।  তবে গোমতীর চরগুলোতে এরই মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, মুলা, টমেটো, শিম, লাউ, শসা, করলা, মিষ্টিকুমড়া ও ধনেপাতা, লালশাকসহ বিভিন্ন আগাম সবজির চাষ হয়েছে। চরাঞ্চলের উর্বর বালুমিশ্রিত দোআঁশ মাটিতে এসব ফসল ভালো ফলন দেয়।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রতিবছর শীত মৌসুমের এসব আগাম সবজি বিক্রি করে তাঁরা ভালো লাভ পান, তাই আগাম সবজি চাষে তাঁরা আগ্রহী। তবে কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন মাটিকে খেকুদের কারণে চরাঞ্চলের শত শত একর জমি বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে এক দিকে যেমন বিলীন হয়েছে ফসলি জমি, অন্যদিকে গোমতীর বাঁধ হয়ে পড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ। 

সোনাপুর এলাকার কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, আমার ৭ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি, ফুলকপি, করলা, শসা, বেগুন, টমেটো, মূলা লাগিয়েছি। বৃষ্টির কারণে অনেক জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক জমিতে দুইবার করে ফসল ফলাতে হয়েছে। খরচ ও শ্রম দুই-ই বেশি হয়ে গেছে । এখন নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার আর পোকামাকড় দমন করছি। কিছু জমিতে আগে শসা ও করলা লাগিয়েছিলাম সেগুলো থেকে এখন ফলন পাচ্ছি। সামনে যদি আবহাওয়া ভালো থাকে তাহলে ফসল ভালোই হবে আশা করি।

তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমাদের এখানের সবজি স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দূরদূরান্তেও যার। আমরা যদি সরকার থেকে ভালো সহযোগিতা ও অনুদান পাই তাহলে আরো ভালোভাবে ফসল ফলাতে পারবো।

আগামী ২০-২৫ পর বাজারে সবজি বিক্রি করতে পারবেন এমন কৃষক দিদার ও ওয়াসেক জানান, ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে সময়মতো বীজতলা তৈরি করলেও বৃষ্টিতে পানি জমে অনেক চারা নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে বীজ বপন করতে হয়েছে, ফলে বাড়তি খরচ হয়েছে। 

তারা আরো জানান, বৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়ার পরেও জমিতে ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে সহযোগিতা পেলে কিছুটা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে তারা জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খাঁন পাপ্পু বলেন, গোমতীর চরাঞ্চলের মাটি অনেক উর্বর। ফলনও ভালো হয়। 

শীতকালীন মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, টমেটো, লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক ইত্যাদি আগাম শীতকালীন সবজি এলাকার কৃষকরা আগেই বাজারে তোলেন। মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের পাশে আছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।