পুলিশ ও জুলাই যোদ্ধাদের সংঘর্ষ ৪ মামলা

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সংঘর্ষের ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় চারটি মামলা করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে করা এসব মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৯০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতের নাম রিমন চন্দ্র বর্মণ।

গতকাল শনিবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকাটি সংরক্ষিত অঞ্চল। সেখানে জোর করে ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৯০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

একজনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে শেরেবাংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হক বলেন, পুলিশের ওপরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে চার মামলায় ৮০০-৯০০ জনকে অজ্ঞাত করে মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় পুলিশ বাদী হয়েছে। তবে  কাউকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়নি। এই মামলায় রিমন চন্দ্র বর্মণ নামে একজনকে গ্রেপ্তার কার হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতের রাজনৈতিক কোনো পরিচয় আছে কি না, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভের পর সকালে প্রাচীর টপকে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মঞ্চের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন শতাধিক ব্যক্তি। শুক্রবার দুপুরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর অবস্থানকারীরা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। তারা ভাঙচুর করেন পুলিশের বাসসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ও সড়কে টায়ার, কাঠ জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে দেন। দুই ঘণ্টা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পর বৃষ্টির মধ্যে বিকেলের আগে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এই ঘটনায় পুলিশের অন্তত ১০ জন ও জুলাই যোদ্ধাদের ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পরেও শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ চালিয়ে যান।

এই সংঘর্ষের ঘটনাকে পুলিশি হামলা উল্লেখ করে শুক্রবার রাতেই প্রতিবাদ জানিয়েছে জুলাই যোদ্ধা সংসদ নামে একটি সংগঠন। এ ছাড়া তিন দফা দাবি বাস্তবায়নসহ হামলার প্রতিবাদে রবিবার (আজ) সারা দেশের সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছে সংগঠনটি।