৪২ লাখের জাতীয় সাঁতারে ৫০০ টাকা প্রাইজমানি

বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি প্রথমবারের মতো আয়োজন করছে জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপ। সোমবার জাতীয় সাঁতার কমপ্লেক্সে শুরু হবে চারদিনব্যাপী ৩৪তম জাতীয় সাঁতার। ফেডারেশন যার বাজেট করেছে ৪২ লাখ টাকার মতো। অথচ অর্থ পুরস্কার হিসেবে পদকজয়ী সাঁতারুদের যা দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেটাকে তামাশা ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে। ব্রোঞ্জ পদকজয়ীকে দেওয়া হবে ৫০০ টাকা! স্বর্ণপদকজয়ী পাবেন দুই হাজার টাকা। আর রৌপ্যপদকজয়ী পাবেন এক হাজার টাকা। ফেডারেশন কর্তাদের দাবী, নিকট অতীতে যেখানে কোন অর্থ পুরস্কার দেওয়া হতো না, সেখানে একটা শুরু তারা করতে যাচ্ছেন।

এবার অবশ্য সাঁতারে নতুন বেশ কিছু ইভেন্ট যুক্ত করেছে ফেডারেশন। এছাড়া ডাইভিং ইভেন্টের সংখ্যাও বেড়েছে। সাঁতার, ডাইভিং ও ওয়াটার পোলো মিলিয়ে মোট ৪৯টি ইভেন্টে খেলা হবে। অর্থাৎ প্রথম থেকে তৃতীয় হওয়া সাঁতারুদের অর্থ পুরস্কার হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা। কোন ইভেন্টে জাতীয় রেকর্ড হলে রেকর্ডধারীকে অবশ্য পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হবে। 

বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শাহীন অবশ্য দাবী করছেন, নিকট অতীতের কমিটিগুলো অর্থ পুরস্কারের প্রথা তুলে দিয়েছিল, যেটা তিনি শুরু করেছিলেন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার প্রথম মেয়াদে, 'সাঁতারুদের অনুপ্রেরণা দিতে আমি প্রথম যখন সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, তখন অর্থ পুরস্কারের প্রচলন করেছিলাম। মাঝে অবশ্য এটা বন্ধ হয়ে যায়। এবার ফের দায়িত্ব নিয়ে বয়সভিত্তিক সাঁতারে অর্থ পুরস্কার দেওয়া শুরু করি। বয়সভিত্তিক সাঁতারের মতো এবার সিনিয়র সাঁতারেও এটা দিচ্ছি।' জাতীয় সাঁতারে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা করছে ম্যাক্স গ্রুপ। বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তাই ফেডারেশন পাচ্ছে। যে কারণে বাজেট ৪০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অথচ অর্থ পুরস্কার কেন এত নগন্য জানতে চাইলে বাজেট ঘাটতির কথা বললেন, 'আমাদের বাজেট সীমিত বলেই এই অর্থ পুরস্কার দিচ্ছি। অতীতের কমিটিগুলো তো দিতোই না। আমরা একটা শুরু করলাম। ভবিষ্যতে এটা চেষ্টা করবো বাড়ানোর। এত কম টাকা দিতে আমারো খুব একটা ভাল লাগছে না। অন্যান্য খাতে অনেক টাকা খরচ করতে হয়।'

শাহীন জানান, এবার নারী বিভাগে তিনটি নতুন ইভেন্ট অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এবারের আসরে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, সুইমিং ক্লাব, বিকেএসপি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ আনসারসহ মোট ৬৭টি দল অংশ নেবে। এর মধ্যে ৫১৬জন পুরুষ ও ৭৯জন নারী সাঁতারু। এছাড়া ১০৫ জন টিম অফিসিয়াল এবং ১২০জন মিট অফিসিয়াল অংশ নেবেন। সব মিলিয়ে ৮১৬জনের অংশগ্রহণে মুখরিত হবে মিরপুরের জাতীয় সাঁতার কমপ্লেক্স। 

সংবাদ সম্মেলনে এসএ গেমসকে সামনে রেখে সাঁতারুদের চলমান ক্যাম্প সম্পর্কে জানিয়েছেন সাধারণ সম্পদাক, 'মিশরীয় কোচের অধীনে আমাদের পুরোদমে অনুশীলন চলছে। সাঁতারুরাই বলেছে, এই কোচের অধীনে অনুশীলন করে অনেক উপকৃত হচ্ছে। এই কোচ দীর্ঘ সময় থাকলে সাঁতার তার হারানো গৌরব ফিরে যাবে। কোচ আপাতত জানুয়ারি পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ। আমরা অবশ্য কোচের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর কথা ভাবছি।'