চলমান নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে কলম্বোর ম্যাচগুলো বারবার বৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ৯টি ম্যাচের মধ্যে ৪টিই পরিত্যক্ত হয়েছে। এ নিয়েই উঠছে প্রবল সমালোচনা—বিশেষ করে আইসিসির “খারাপ পরিকল্পনা” নিয়ে।
পুরুষদের ক্রিকেটে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের মাধ্যমে আইসিসি সাময়িকভাবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) দ্বন্দ্ব প্রশমিত করেছিল। তবে এ সিদ্ধান্তে কিছু বিদেশি খেলোয়াড় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন—তাদের অভিযোগ ছিল, ভারতকে দুবাইয়ের বাইরে ভ্রমণ না করায় তারা বাড়তি সুবিধা পেয়েছিল।
নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে আবারও একই বিতর্কে জড়িয়েছে আইসিসি। ভারত এই টুর্নামেন্টের মূল আয়োজক হলেও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শ্রীলঙ্কাকে সহ-আয়োজক করা হয়। কিন্তু ফলাফল হয়েছে উল্টো—কলম্বোয় লাগাতার বৃষ্টির কারণে একের পর এক ম্যাচ বাতিল।
ইংল্যান্ডের সাবেক স্পিনার অ্যালেক্স হার্টলি আইসিসির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, 'সত্যি বলতে, কেউ আসলে কী আশা করেছিল জানি না। শ্রীলঙ্কায় বৃষ্টির মৌসুমে টুর্নামেন্ট আয়োজন মানেই তো প্রতিদিন বিকেলে বৃষ্টি হবে—এটা তো সবাই জানে। এতে পুরো বিশ্বকাপটাই নষ্ট হয়ে গেছে। আপনি কখনোই চাইবেন না যে, ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের ম্যাচের আগে ভাবতে হবে- দেখি আজ অন্তত ২০ ওভার খেলা হয় কি না। এটা খুবই হতাশাজনক।”
২০১৭ নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী হার্টলি আরও বলেন, “আমরা ১০ বছর আগে অক্টোবর মাসে শ্রীলঙ্কা সফর করেছিলাম। তখন প্রতিটি বিকেলে অনুশীলন বৃষ্টিতে নষ্ট হতো। এই অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি—শ্রীলঙ্কায় খেলাগুলো সকাল ১০টা বা ১১টায় শুরু করলে অন্তত পূর্ণ ম্যাচ পাওয়া যেত।”
নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক সোফি ডিভাইনও একই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কলম্বোয় বৃষ্টির কারণে কিউইরা সম্ভাব্য দুটি জয়ের সুযোগ হারিয়েছে বলেই জানিয়েছেন তিনি।
এখন আইসিসি-কে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে টুর্নামেন্টের সূচি নির্ধারণের এই ব্যর্থতা। ক্রিকেটবিশ্বে এখন জোর আলোচনা—মনসুন মৌসুমে শ্রীলঙ্কায় ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত আদৌ কতটা যৌক্তিক ছিল?
কিং আর হিটম্যানের ভুলে যাওয়ার মতো ফেরা