বিএনপিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘বিপরীতে দাঁড় করানোর’ অপচেষ্টা সফল হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘কোনো একটি রাজনৈতিক দল নয়, সব রাজনৈতিক দল যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অবদান রেখেছে, অবিরাম সংগ্রাম করেছে তাদের সবার অবদানের প্রেক্ষিতেই সংঘটিত হয়েছে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান।’
গতকাল রবিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে এই পর্যন্ত আমাদের যে পরিসংখ্যান বেরিয়েছে ৪২২ জন, আমরা ছবি সহকারে আমাদের নেতাকর্মীদের তালিকা প্রকাশ করেছি, এ সংখ্যা আরও বেশি হবে যারা জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে নিজেদের প্রাণ বিসর্জন করেছেন, শহীদ হয়েছেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপি যে ভূমিকা, যে সংগ্রাম, যে ত্যাগ করেছে সেই রক্তের সিঁড়ি বেয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে।’ তবে শুধু বিএনপি নয়, বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর অবিরাম সংগ্রাম ত্যাগ ও রক্তদানের মধ্য দিয়েই গণঅভ্যুত্থান সোপান গড়ে ওঠার কথাও মনে করিয়ে দিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘শাপলা চত্বরের যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড সেটা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।’
নাহিদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গতকালকে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় আমার একটা বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আমাকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য তারা আহ্বান জানিয়েছেন, আমি এটাকে স্বাগত জানাই। এভাবেই রাজনৈতিক চর্চা হওয়া উচিত, গণতান্ত্রিক চর্চা হওয়া উচিত, যথেষ্ট সম্মানের সঙ্গেই তারা কথাগুলো বলেছেন। আসলে বয়সের কারণে অনেকেই আবেগে হয়তো অনেক কথা বলেছেন। আমি সেটা নিয়ে সমালোচনা করতে চাই না।’
জুলাই অভ্যুত্থানে জড়িত সবার আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তাদের সামান্য কিছু ভুল-ত্রুটি থাকতেই পারে, সেটা আমরা রাজনীতিতে যেহেতু অনেক দিনের আমাদের অভিজ্ঞতা, আমরা সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি এবং আশা করি তারা এ সব ভুলভ্রান্তি থেকে মুক্ত হবে ভবিষ্যতে।’
ফ্যাসিবাদবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে তাতে কোনো কলঙ্ক লাগুক সেটি তারা চান না তুলে ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমির একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন, আমি দেখলাম তাতেও তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, জুলাই যোদ্ধাদের ফ্যাসিবাদের দোসর নামে অভিহিত করে বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। সে বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত এবং সেই বক্তব্যকে ধারণ করা আমাদের সবার উচিত, তাদেরও উচিত। কিন্তু আমাদের বক্তব্য নিয়ে কাটিং করে বিভিন্নভাবে অপব্যাখ্যা দেওয়া থেকে সর্বমহলকে বিরত থাকার জন্য আমি অনুরোধ জানাব।’
আপনার বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে কি না? জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, বিকৃত করা হয়েছে। তবে আংশিক বক্তব্যটা “কাট’’ করে তারা কথা বলেছে বলে আমার মনে হয়। কারণ আমি আমার বক্তব্যের শেষ লাইনে বলেছি যে, ওখানে কোনো জুলাই যোদ্ধা, সঠিক কোনো জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত কোনো সংগঠন অথবা ব্যক্তি ওই বিশৃঙ্খল ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে না, জড়িত থাকতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি না। কয়েকটা ভিডিওতে আমি দেখেছি, একটা ছেলে জুলাই নামে একটা গেঞ্জি গায়ে দেওয়া ছিল। একটা পুলিশের ব্যারিকেড নিজে নিজেই সরাচ্ছে এবং ধপাস করে পড়ে যাচ্ছে একটা ইটের ওপরে নিজে নিজেই কয়েকজন ধরে বলল যে এই হয়েছে, সেই হয়েছে। আরেকজন ছেলে দেখলাম যে নিজে নিজেই পড়ে গিয়ে বলছে যে আহত হয়েছে এবং তার পায়ে সিটি স্ক্যান লাগবে এবং বলছে যে সে এসএসসি পাস করছে সিলেটের এমসি কলেজ থেকে।’
‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন থাকার কথা তুলে ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘সরকারও সম্ভবত একটা তদন্ত টিম গঠন করেছে, তাদের তদন্তে কী আসে দেখা যাক? তবে আমার মনে হয়, কিছু কিছু ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা যে দেশে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করার জন্য হয়তোবা এগুলো করে থাকতে পারে কোনো কোনো গোষ্ঠী, তার সঙ্গে হয়ত পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা এবং পতিত ফ্যাসিবাদ জড়িত থাকতে পারে। তবে সেটা তদন্ত করার আগে বলা যাবে না।’