বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে জয়ী হয়েছেন মধ্যপন্থি নেতা রদ্রিগো পাজ। রক্ষণশীল হোর্হে ‘টুতো’ কিরোগাকে হারিয়ে রান অফে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে প্রায় দুই দশকের বামপন্থি শাসনের অবসান ঘটল। দেশটির ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট এই পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বলিভিয়ার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের প্রাথমিক ফলে ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর পাজ রান অফে ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট হলেও পার্লামেন্টে পাজের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তাকে জোট সরকার গঠন করতে হবে। আগামী ৮ নভেম্বর নতুন প্রেসিডেন্ট লাতিনের দেশটির দায়িত্বভার নেবেন। বিজয়ের ঘোষণায় পাজ বলেন, আমাদের অবশ্যই বিশ্বের কাছে বলিভিয়াকে খুলে দিতে হবে।
পাজ বলিভিয়ার চলমান সামাজিক কর্মসূচিগুলো চালু রাখার পাশাপাশি বেসরকারি খাত নেতৃত্বাধীন উন্নয়নকে উৎসাহিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা বিরোধী সমর্থকদের আকৃষ্ট করেছে। আর আবার রক্ষণশীল কিরোগার প্রস্তাবিত কর্মসূচি নিয়েও আতঙ্কিত ছিলেন অনেক বলিভায়ান মনে করা হচ্ছে এসবই রান অফে পাজের জয়ে ভূমিকা রেখেছে। তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আগস্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটে ইভো মোরালেসে দল ‘মাসে’র প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছিল।
২০০৬ সাল থেকে বলিভিয়া মূলত টানা বলিভিয়াস মুভমেন্ট ফর সোশালিজম বা মাসের শাসনে ছিল, যারা এককালে সংখ্যাগরিষ্ঠ আদিবাসীদের কাছ থেকে একচেটিয়া সমর্থন পেত। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সাউদার্ন আন্দিজের বিশ্লেষক গ্লায়েলডিজ গনজালেজ কালানচে বলছেন, এই নির্বাচনকে বলিভিয়ার রাজনীতিতে সন্ধিক্ষণ বলা যায়। বলিভিয়া এখন এক নতুন দিকে যাচ্ছে। রান অফের আগে পাজ ও কিরোগা উভয়েই নির্বাচনে জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো করা ও বলিভিয়ার ভঙ্গুর অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত আর্থিক সহায়তা চাওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেপ্টেম্বরের শেষদিকে পাজ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেড়শ কোটি ডলারের একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রস্তাব হাজির করেছিলেন।