দখল হয়ে যাওয়া ভূখণ্ড রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আবারও পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিন বছর ধরে চলমান যুদ্ধ বন্ধে অগ্রগতির লক্ষ্যে গত শুক্রবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বৈঠকের বিস্তারিত তখন প্রকাশ করা হয়নি। তবে গত রবিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস প্রথম এই তথ্য প্রকাশ করে। বৈঠকের বিষয়ে অবগত দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনার সময় পরিবেশ যথেষ্ট উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইউক্রেনের প্রতিনিধিদল বৈঠকের ফল নিয়ে বেশ হতাশ ছিল।
তারা আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে ‘ভূখণ্ড বিনিময়’ ধারণা আবারও উত্থাপন করেন যা ট্রাম্প আগেও সমর্থন করেছিলেন। তাই দ্রুত একটি সমঝোতা প্রয়োজন। এক কর্মকর্তার দাবি, রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা না করলে ইউক্রেন ধ্বংস হয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে তার এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন অন্যজন। প্রেসিডেনশিয়াল উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ানে রবিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয়, ইউক্রেনের উচিত তাদের ফ্রন্টলাইনে থেমে যাওয়া। এখন আলোচনায় একজন বলবে আমি এটা চাই, আরেকজন বলবে ওটা চাই এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। রয়টার্সের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউক্রেনকে পুরো দনবাস ছাড়ার কথা তিনি বলেননি। এখন যেভাবে বিভক্ত আছে, সেভাবেই থাকার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, প্রায় ৭৮ শতাংশ অঞ্চল এখন রাশিয়ার দখলে। পরে আলোচনা হতে পারে।
হোয়াইট হাউজের মসনদে বসার পর থেকেই তড়িঘড়ি ইউক্রেন সংকটের সমাধান চাইছিলেন ট্রাম্প। তার হুড়োহুড়িতে কিয়েভকে মস্কোর কাছে প্রায় বিকিয়ে দেওয়ার শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিলেন ইউক্রেনের মিত্ররা। তবে বিগত কয়েক সপ্তাহে তার সমর্থনের পাল্লা কিয়েভের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়ছিল। এমনকি জাতিসংঘে জেলেনস্কির সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প প্রায় অসম্ভব এক কথাও বলেন, ইউক্রেন হয়তো দখল হয়ে যাওয়া ভূমি ফেরত পেতেও পারে। অথচ সবশেষ বৈঠকে আবারও হতাশ হয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তবে শুক্রবারের বৈঠক ইঙ্গিত দেয়, ট্রাম্প আবারও যত দ্রুত সম্ভব একটি চুক্তি চাইছেন, এমনকি তা যদি কিয়েভের জন্য অগ্রহণযোগ্যও হয়। ওই বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য আরেকটি ধাক্কা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিতে ট্রাম্পের রাজি না হওয়া। অথচ শুক্রবারের জেলেনস্কি হোয়াইট হাউজে গিয়েছিলেন ইউক্রেনকে দূরপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়া হয় সে বিষয়ে ট্রাম্পকে রাজি করাতে। তা তো তিনি পেলেনই না, উল্টো ভূখণ্ড ছাড়তে পুরনো চাপই নতুন করে সামনে এলো। আলোচনার একপর্যায়ে তিনি কিয়েভ ও মস্কো উভয়কেই নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুললে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিরা।
বৈঠকের পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে বর্তমান ফ্রন্টলাইন ধরে একটি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। পরে সাংবাদিকদের কাছে জেলেনস্কিও সেই প্রস্তাবে সমর্থন দেন। আলোচনায় জেলেনস্কি যখন জানান যে ইউক্রেন কোনো অঞ্চল স্বেচ্ছায় ছাড়বে না, তখনই ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন বলে সূত্র জানায়। বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা বলেছেন, আলোচনার শেষ দিকে ট্রাম্প বলেছিলেন, বর্তমান ফ্রন্টলাইন অনুযায়ী সীমারেখাতেই চুক্তি হোক।