আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাওয়া হয়নি, তারা অন্তর্বর্তী সরকারকেই তত্ত্বাবধায়কের ভূমিকায় দেখতে চায়। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সেনা সদস্যদের উপস্থিত করার বিষয়টিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আসিফ নজরুল বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ দেখিয়ে সেনা সদস্যদের যেভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নিয়ে আসা হয়েছে, এ কাজে সেনা প্রশাসন, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা সেনাপ্রধান যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, সেটি অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার। আইনের শাসনের প্রতি তারা যে শ্রদ্ধাবোধ দেখিয়েছেন, এটি ইতিবাচক।
আইন উপদেষ্টা বলেন, সেনা কর্মকর্তাদের সাবজেলে কেন রাখা হয়েছে বা কোথায় রাখা হবে, সেই এখতিয়ার আইন মন্ত্রণালয়ের নেই। তাদের কোথায় রাখা হবে, এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। যেটি প্রয়োজন ও যুক্তিযুক্ত, তারা সেটিই করবেন।
আসিফ নজরুল বলেন, উনারা (বিএনপি) চেয়েছে ইন্টেরিম (অন্তর্বর্তী) সরকার, যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো ভূমিকা পালন করে। নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে। তো আমরা উনাদের বলেছি, আমরা নিরপেক্ষ ভূমিকাই পালন করছি। নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার জন্য প্রধান উপদেষ্টা এমনকি এ অ্যাসিওরেন্স (নিশ্চয়তা) দিয়েছেন যে এখন জনপ্রশাসন বা অন্য কোনো জায়গায় বড় বড় বদলির ব্যাপারটা উনি নিজে দেখবেন। তো বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়, এটা বলেনি। বলেছে, ইন্টেরিম সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো রোল (ভূমিকা) পালন করতে হবে।
নির্বাচনকালীন সরকার পরিবর্তন হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, না। এ ধরনের কোনো কিছু আলোচনা হয়নি। এটা উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনার বিষয়। নির্বাচনকালীন সরকার ছোট হবে, না কেমন হবে, এ ধরনের কোনো দাবিও কোনো মহল থেকে উত্থাপিত হয়নি।
উপদেষ্টাদের মধ্যে দলীয় কেউ থাকলে তাদের ‘উপদেষ্টা পরিষদে’ না রাখার বিষয়ে বলেছে বিএনপি এমন প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, এটা তারা এর আগেও বলেছে। এ নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই। প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
এ প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে সব দলই অভিযোগ করে, এক দল বলে ওই দলের লোক আছে, আরেক দল বলে ওই দলের লোক আছে। যেহেতু সব দলই অভিযোগ করে, অন্য দলের লোক আছে। তার মানে হচ্ছে আমরা নিরপেক্ষভাবেই দায়িত্ব পালন করছি।
আগামী নির্বাচন নিয়ে আস্থার অভাব আছে কি না, তা জানতে চাইলে আইন উপদেষ্টা বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে আস্থার অভাব আছে কি না, তা জানা নেই। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে রকম অনৈক্য, একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে যেভাবে বলে, সে কারণেই হয়তো এই আস্থার অভাব দেখা দিতে পারে। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাস্তব অগ্রগতি দেখা গেলে এসব সংশয় দূর হবে।