‘ঘোষণা’ দিয়ে আ.লীগে বিএনপির সাবেক নেতা

কিশোরগঞ্জের সাবেক বিএনপি নেতা ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু আহমেদ ফয়জুল করিম মুবিন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। গত বুধবার ফেসবুক লাইভে তিনি এ ঘোষণা দেন। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দলে যোগদানের খবর প্রচার করেন।

ফয়জুল করিম মুবিন কিশোরগঞ্জের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুল করিমের পুত্র। গত বছরের ৫ অক্টোবর তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন।

বুধবার ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। তিনি পাগলের প্রলাপ বলার মতো মানুষ নন। দেশপ্রেম ও চিন্তা-চেতনার ভিত্তিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হয়নি, আর যখনই হয়েছে, কেউ ক্ষমতায় টিকতে পারেনি।’

ফেসবুক লাইভে ফয়জুল করিম বলেন, ‘শেখ হাসিনা যেহেতু বলেছেন, তিনি অবশ্যই দেশে ফিরবেন। আমি রাজনীতি করেছি দেশের জন্য, দলের জন্য নয়। এখন মনে করছি, দেশের নেতৃত্বে শেখ হাসিনার প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি এখন নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। শেখ হাসিনা শুধু আওয়ামী লীগের নয়, তিনি এই দেশের স্থিতিশীলতার প্রতীক। দেশ ও জনগণের স্বার্থে এখন ঐক্যের সময়। আমি কিশোরগঞ্জ থেকে ২১ অক্টোবর অসাংবিধানিক সরকার কর্র্তৃক জুলাই সনদের তীব্র বিরোধিতা করি।’

বক্তব্য শেষে তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ সেøাগান দেন।

ফয়জুল করিম দীর্ঘদিন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির উপ-দপ্তর সম্পাদক, পৌর বিএনপির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাবা মরহুম ফজলুল করিম ১৯৭৮-১৯৮২ মেয়াদে কিশোরগঞ্জ সদর আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

তার আওয়ামী লীগে যোগদান নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ মনে করছেন, এটি বিএনপির জন্য ধাক্কা, আবার আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, তার অভিজ্ঞতা দলকে শক্তিশালী করবে।

আওয়ামী লীগে যোগদানের বিষয়ে ফয়জুল বলেন, ‘যা সত্য মনে হয়েছে, তাই বলেছি। এখন থেকে আমার নেত্রী শেখ হাসিনা।’

কিশোরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশফাক বলেন, ‘ফয়জুলের বক্তব্য পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

অবশ্য ফয়জুল গত ৫ অক্টোবর ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন। সে সময় ফেসবুকে দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব ও সিনিয়র নেতাদের উপদেশে ধৈর্যের ঘাটতির কারণে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন। এরপর গত ৯ অক্টোবর তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (এপিপি) পদ থেকেও পদত্যাগ করেন।