মুমিনের দিন শুরু বরকতময় ফজর দিয়ে

প্রভাতের আলো ফোটার আগেই যিনি আল্লাহর জন্য সেজদায় নত হন, তার সারা দিনের প্রতিটি পদক্ষেপে নেমে আসে বরকত। ফজরের নামাজ দিয়ে দিন শুরু করা মানে নিজের ভেতর এক পবিত্র চেতনার জাগরণ ঘটানো। গভীর ঘুম ভেঙে যিনি মসজিদের দিকে অগ্রসর হন, তিনি আসলে দুনিয়ার সব অনিশ্চয়তা, ভয় ও অস্থিরতার ঊর্ধ্বে উঠে যান। ফজর মুমিনের আত্মিক জাগরণের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত। দিনের শুরুতে এ নামাজ বান্দাকে স্রষ্টার অনুগ্রহে আবৃত করে রাখে।

মহান আল্লাহ কোরআনের সুরা নিসার ১০৩ নম্বর আয়াতে বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায় করা মুমিনদের জন্য ফরজ দায়িত্ব। আর এই ফরজ ইবাদতের সূচনা হয় ফজর দিয়ে। তাই ফজরের নামাজ মুমিনের দিনের প্রথম অধ্যায়, যেখানে সে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, মনকে প্রশান্ত করে এবং জীবনের প্রতিটি কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে। কিন্তু দুঃখজনক হলো, এই বরকতময় মুহূর্তে অধিকাংশ মানুষ ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে। অথচ এই অল্প কিছু মুহূর্তেই নিহিত আছে এমন বরকত, যা পুরো দিনের গতিপথ পাল্টে দিতে পারে।

আল্লাহ ফজরের নামাজ আদায়কারীদের নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে ফেরেশতারা রাতে ও দিনে পালাক্রমে আসে। তারা আসর ও ফজরের নামাজের সময় একত্র হয়। এরপর যারা রাতে তোমাদের সঙ্গে ছিল তারা আসমানে ফিরে যায়। আল্লাহ তাদের জিজ্ঞাসা করেন, তোমরা আমার বান্দাদের কেমন অবস্থায় রেখে এসেছ? ফেরেশতারা বলে, হে আমাদের রব! আমরা তাদের রেখে এসেছি যখন তারা নামাজ আদায় করছিল এবং তাদের কাছে যখন এসেছিলাম তখনো তারা নামাজ আদায় করছিল।’ (সহিহ বুখারি)

ফজরের নামাজ গুরুত্ব কেবল আখিরাতের মুক্তির জন্য নয়, বরং দুনিয়ার জীবনেও এনে দেয় প্রশান্তিও স্থিরতা। যারা ভোরের ঘুম ত্যাগ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নামাজে দাঁড়িয়ে যান, তাদের জন্য আল্লাহ ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করেন। কারণ তারা তখন নিজের আরাম ত্যাগ করে শুধুমাত্র এক উদ্দেশে জেগে ওঠে, রবের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। এ ত্যাগই তাকে করে তোলে মহান আল্লাহর পরম প্রিয়।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জামাতে ফজরের নামাজ আদায় করে, সে যেন পুরো রাত নামাজ আদায় করেছে।’ (সহিহ মুসলিম) মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক ও প্রবন্ধকার