প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তালা

কুষ্টিয়ায় ১১৫টি স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে সিভিল সার্জন কার্যালয় নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে খবর পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ভুক্তভোগী চাকরিপ্রত্যাশী ও সাধারণ ছাত্র-জনতা কার্যালয়ের গেটে অবস্থান নেন। তারা গেটে ব্যানার টাঙিয়ে তালা দেন এবং নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদ, পরীক্ষা বাতিল, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানান। 

অভিযোগ রয়েছে, গত শুক্রবার ভোরে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন ইমামের বাসভবন থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। 

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ২৫-৩০ জন পরীক্ষার্থীকে দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও সিএনজির মাধ্যমে আরএমওর বাসায় আনা হয়। সেখানে তাদের প্রশ্নপত্র দেখানো হয় এবং ডামি খাতায় পরীক্ষা নিয়ে প্রস্তুত করার পর তাদের পরীক্ষার হলে প্রবেশ করানো হয়। 

তারিব রহমান প্রান্ত (ক্রমিক ২৪১৭১৬০০২০৯) নামে এক সাধারণ পরীক্ষার্থী বলেন, ‘এই পরীক্ষায় নিয়োগ-বাণিজ্য ও দুর্নীতি চরমভাবে প্রকাশ পেয়েছে। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. হোসেন ইমাম ও তার বড় ভাই ২৫-৩০ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে রাতভর তাদের বাসায় রেখে প্রশ্ন ফাঁস করেছেন। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সকালেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আমরা পরিশ্রম করে পরীক্ষা দিতে এসেছি, কিন্তু পূর্বনির্ধারিত এমন অনিয়ম হলে পরীক্ষার কোনো মূল্য থাকে না। শুনেছি, চুক্তিবদ্ধ প্রার্থীদের কাছ থেকে ১৪-১৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। নতুন সরকারের আমলে দুর্নীতি কমবে ভেবেছিলাম, কিন্তু বাস্তবে তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।’ 

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন ইমাম বলেন, ‘শুক্রবার সকালে কয়েকজন ছাত্রীকে আমার বাসা থেকে বের হতে দেখে তা ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে। আমি এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।’ 

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. শেখ কামাল হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। আমি অসহায়। নিয়োগ পরীক্ষার জন্য একটি কমিটি গঠিত হয়েছে, তারাই বিস্তারিত জানাতে পারবেন। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে।’ 

পরীক্ষা কমিটির সদস্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল রাজস্ব খাতভুক্ত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১১-২০তম গ্রেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সাতটি পদে মোট ১১৫ জনকে নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়। এসব পদে নিয়োগের জন্য গত শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের ১১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।