চিফ প্রসিকিউটর বললেন

জুলাই আন্দোলনের বীরত্বগাথা সংরক্ষণ করতে হবে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের বীরত্বগাথা লিখে রাখতে হবে। সংরক্ষণ করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আমাদের সন্তানেরা একইভাবে জেগে ওঠতে পারে।’

গতকাল শনিবার দৈনিক ‘নয়া দিগন্ত’ পত্রিকার ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে প্রত্যেকটি শহীদের ঘটনা গণমাধ্যমে তুলে আনতে হবে। নতুন প্রজন্মের ভাষা, আকুতি তুলে ধরতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে প্রত্যেকটি শহীদের ঘটনা, শহীদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এক গৌরব উজ্জ্বল বীরত্বগাথা দেখতে পাবেন। আমরা যদি তাদের তুলে আনতে না পারি, তাহলে এই জেনারেশনের কথা কিন্তু আমরা বুঝতে পারব না। আগামীতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়া, আগামীর বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিক থাকার কোনো অধিকার আমাদের থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে যে মহাবিপ্লব হয়েছে, ভেতর থেকে কী পরিবর্তন হয়েছে, সে উপলব্ধি আমাদের করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে, শহরের দেয়ালে যে গ্রাফিতি, তাদের ভাষা, তাদের প্রেজেন্টেশন, তাদের মনের আকুতি আমাদের বুঝতে হবে। সে আলোকে ন্যারেটিভ তৈরি করতে হবে।’ অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, ‘জেন জিকে আমরা অপদার্থ ভেবেছিলাম। কিন্তু আবাবিল পাখির মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাথর আর লাঠি দিয়ে এক  স্বৈরশাসককে শুধু চর্বিত ঘাসের ন্যায় পিষেই ফেলেননি, দিল্লি পর্যন্ত তাড়িয়ে নিয়ে গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এটা এক মহাকাব্যিক বিপ্লব। এটা জাতির প্রবহমান রক্ত স্রোতের সঙ্গে আমাদের মিশিয়ে দিতে হবে যে, এমন বিপ্লব আমাদের সন্তানরা করতে পারে। তাদের বীরত্বগাথা লিখে রাখতে হবে, সংরক্ষণ করতে হবে আগামী প্রজন্মের জন্য। যাতে কোনোদিন প্রয়োজন হলে আমাদের সন্তানরা আবার একইভাবে জেগে উঠতে পারে।’