আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ রবিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে আমন্ত্রিত হয়েছেন চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের প্রায় অর্ধশত মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র নেতারা। লন্ডন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে যুক্ত হতে পারেন।
দলীয় সূত্রমতে, চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে অন্তত ১০টিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও কোথাও তা সংঘাত-সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কারও কারও বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এই কোন্দল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমস্যাযুক্ত আসনগুলোর মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে ইতিপূর্বে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম। বৈঠকে প্রত্যাশীরা নির্বাচনে প্রার্থিতার বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক দলের হাইকমান্ডের ঐক্যের বার্তা তাদের স্মরণ করিয়ে দেন।
সূত্র জানায়, একাধিক জরিপ ও দায়িত্বশীল নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত। দলের একক প্রার্থী ঘোষণার পর মনোনয়নবঞ্চিতরা যেন দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে না যান এবং প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেন, সেই বার্তা দেওয়া হতে পারে রবিবারের বৈঠকে।
চট্টগ্রামের ১৬ আসন, কক্সবাজারের ৪ আসন, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ৩ আসন, নোয়াখালীর ৬ আসন, লক্ষ্মীপুরের ৪ আসন এবং ফেনীর ৩ আসনসহ মোট ৩৬টি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার একাধিক আসনের বেশ কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী দেশ রূপান্তরকে জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা আবদুস সাত্তার পাটওয়ারী বা অন্য নেতাদের কাছ থেকে ফোন পেয়েছেন তারা। বেশিরভাগ প্রত্যাশী গত শনিবার রাতে ঢাকা রওনা হয়েছেন, কেউ কেউ আজ সকালের ফ্লাইটে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। সবাই মনোনয়ন পাওয়ার আশা নিয়ে বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কে ‘ধানের শীষ’ পাচ্ছেন, সেটাই এখন প্রতীক্ষার বিষয়।
বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রবিবার বিকেল ৪টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে সিনিয়র নেতাদের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। মোট ৩৬ আসনের সম্ভাব্য প্রত্যাশীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যার মধ্যে চট্টগ্রামের ১৬ আসন থেকে প্রায় অর্ধশত প্রত্যাশীকে ফোন করে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। তারেক রহমান ভার্চুয়ালি বৈঠকে যুক্ত হবেন বলে জানা গেছে।’
দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, চট্টগ্রামের আসনগুলোয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের মধ্যে অন্তর্কলহ বেড়েছে, যা দলের নীতিনির্ধারকদের নজরে এসেছে। বিশেষ করে রাউজান, মিরসরাই, সন্দ্বীপ, আনোয়ারা, বাঁশখালী ও পটিয়া আসনগুলো বেশি সমস্যাযুক্ত। দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর ভোটের মাঠে যেন এর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেদিকে জোর দিচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা।