বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নতুন হতে যাওয়া আইনের খসড়ায় জামিনের সুযোগ না রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনে আন্তর্জাতিক মিঠাপানির ডলফিন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ৬৪ জেলায় একটি করে স্বেচ্ছাসেবী দল গড়ে তোলার পরামর্শ দেন পরিবেশ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আমরা বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের নতুন খসড়া করেছি, সেখান আমরা ‘কগনিজেবল’ (আমলে নেওয়া) এবং ‘নন বেইলেবল’ (জামিনযোগ্য নয়) করেছি, যা এখনো খসড়া আকারে রয়েছে এবং কেবিনেটে যায়নি।’ অনুষ্ঠানে ‘ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির’ কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলম, মিঠাপানির জরিপ ২০২৪-২৫-এর ফল তুলে ধরেন। এতে দেশে ৪৫টি বড় নদীর ৩ হাজার ৩৮৩ কিলোমিটার জলপথ জরিপ করে ৭৮৭ দলে, ২ হাজার ৮২টি শুশুকের সংখ্যা নির্ণয় করার কথা জানানো হয়। এ ছাড়া দূষিত বুড়িগঙ্গা ও বংশী নদীতেও এর উপস্থিতি মিলেছে বলে জরিপে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দেশব্যাপী শুশুকের আবাসস্থলের শীর্ষ ১০ শতাংশ বা ২৫টি অঞ্চলকে শুশুকের হটস্পট হিসেবে নির্ণয় করা গেছে বলে জারিপে তুলে ধরা হয়।
পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে জিনিসগুলো আমাদের প্রশান্তি দেয় সেগুলো নিয়েও আমাদের দুঃস্বপ্নের ঘরে থাকতে হয়। ডলফিনগুলোকে বাঁচাবার জন্য বা বংশবৃদ্ধি করার জন্য যা প্রয়োজন তা কিন্তু একটা সভ্য সমাজের মানদন্ডের নির্ণায়ক।’
তিনি যোগ করেন ‘যদি বলেন যে, শুশুক বা আমাদের ডলফিন থাকবে পরিষ্কার পানিতে, তাহলে যেকোনো সভ্য জাতিও থাকবে পরিষ্কার পানির পাশেই। যে জাতি নিজেকে সভ্য দাবি করবে, সে জাতি তার নদীগুলোকে আবার দূষিত করবে দুটো তো একসঙ্গে হতে পারে না। দুটো তো সাংঘর্ষিক হয়ে যাচ্ছে।’
পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘যখন ডলফিনের সংখ্যা বাড়বে তখন বুঝতে হবে যে, নদী দূষণে আমরা নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে এগোচ্ছি। যখন ডলফিনের সংখ্যা কমবে তখন আমরা বুঝব যে, নদীগুলোকে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলছি।’