মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৫ সেনা কর্মকর্তাদের (একজন অবসরোত্তর ছুটিতে) হাজির করার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল আদালত নতুন এ তারিখ ধার্য করে। গত ২২ অক্টোবর গুম-নির্যাতনের দুটি মামলায় ১৩ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন দুই মামলায় পরবর্তী শুনানি ও হাজিরার জন্য ২০ নভেম্বর ধার্য করেছিল আদালত। গতকাল এই দুই মামলায় ২৩ নভেম্বর পরবর্তী তারিখ ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল। এই দুই মামলাতেই প্রধান আসামি ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা।
অন্যদিকে গণঅভ্যুত্থানের সময় রামপুরায় হত্যাকান্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই সেনা কর্মকর্তাকে হাজির করার নির্ধারিত তারিখ ছিল আগামী ৫ নভেম্বর। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুজনের হাজিরা ও শুনানির জন্য আগামী ২৪ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম পরে সাংবাদিকদের বলেন, প্রসিকিউশনের প্রস্তুতি ও ‘পারসোনাল ডিফিকাল্টিজ’র কারণ দেখিয়ে সেনা কর্মকর্তাদের হাজির করার তারিখ পেছানোর আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে।
আইন প্রয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সেনা কর্মকর্তারা কর্মরত প্রসিকিউটর : গুম ও হত্যাকান্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের পৃথক তিন মামলায় ২৫ সেনা কর্মকর্তার মধ্যে গ্রেপ্তার ১৫ জন এখনো কর্মরত বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। গতকাল ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হলে আসামি চাকরিতে থাকতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে এই সেনা কর্মকর্তাদের অবস্থান কী হবে? জবাবে অ্যাডভোকেট মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, ‘যেটা আইনে বলা আছে, সেটাই আইনের ব্যাখ্যা। এখন সেনা সদর দপ্তর সিদ্ধান্ত নেবে যে, এই আইন কবে ওনাদের (সেনা কর্মকর্তারা) ক্ষেত্রে প্রয়োগ করবে। যতক্ষণ প্রয়োগ না করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তো সার্ভিং (কর্মরত) বলাই যেতে পারে।’