দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধযান বিধ্বস্ত

দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান ও একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। গত রবিবার ৩০ মিনিটের ব্যবধানে দক্ষিণ চীন সাগরে ওই হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয় বলে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে ইউএস প্যাসিফিক ফ্লিট। বিধ্বস্ত হওয়া হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমানটি ইউএসএস নিমিৎজ বিমানবাহী রণতরী থেকে রুটিন অপারেশন চালাচ্ছিল বলে জানানো হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এক বিবৃতিতে দেশটির নৌবাহিনী জানিয়েছে, ‘এমএইচ সিক্সটিআর সি হক’ হেলিকপ্টারটি স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে সাগরে পড়ে যায়।

তিনজন ক্রু সদস্যকেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে, ‘ফাইটিং রেডককস’ স্কোয়াড্রনের (ভিএফএ-২২) অধীনে থাকা একটি এফএ অ্যাট্টিনএফ (এফ/এ-১৮এফ) সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমানও দক্ষিণ চীন সাগরে বিধ্বস্ত হয়। দুই পাইলটই সময়মতো ইজেক্ট করে নিরাপদে বেরিয়ে আসেন। ইউএস প্যাসিফিক ফ্লিট জানিয়েছে, দুটি ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটিকে ‘খুবই অস্বাভাবিক’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং জ্বালানির ত্রুটির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। সোমবার মালয়েশিয়া থেকে জাপানগামী এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, জ্বালানিতে সমস্যা থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আমরা কারণ খুঁজে বের করব। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হিসেব অনুযায়ী, এই বছর এটি চতুর্থ এফ/এ-১৮ জেট দুর্ঘটনা প্রতিটির মূল্য প্রায় ৬ কোটি ডলার।

দক্ষিণ চীন সাগরের অবস্থান কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চীনসহ দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ এ সাগরের জলসীমার কিছু অংশের মালিকানার দাবিদার। যদিও আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথের প্রায় পুরোটার মালিকানা দাবি করে বেইজিং।

যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ওই অঞ্চলে নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখছে, যাতে চীনের সার্বভৌমত্বের দাবিকে প্রতিহত করা যায় এবং ওয়াশিংটনের মিত্র ও অংশীদারদের সহায়তা করা সম্ভব হয়।