আজ ৯ রান করলে 'সিংহাসনে' বসবেন বাবর

প্রায় এক বছর পর আজ আবার আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে মাঠে নামছেন বাবর আজম। পাকিস্তানের হয়ে তাঁর সর্বশেষ টি–টোয়েন্টি ম্যাচ ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, প্রতিপক্ষ তখনও দক্ষিণ আফ্রিকা। আজ রাওয়ালপিন্ডিতেও সেই প্রতিপক্ষই। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়।

সাবেক অধিনায়ক হিসেবে এবার বাবরের ফেরাটা শুধু আবেগের নয়, রেকর্ডেরও। মাত্র ৯ রান করলেই তিনি পেয়ে যাবেন ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক—আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এই মুহূর্তে পাকিস্তানি তারকার ঝুলিতে আছে ৪২২৩ রান, আর রোহিত শর্মার দখলে ৪২৩১। অর্থাৎ আজ মাত্র ৯ রান পেলেই বাবর ছাড়িয়ে যাবেন ভারতের সাবেক অধিনায়ককে। বিশেষত্ব হলো, বাবর রোহিতের চেয়ে ২৯ ইনিংস কম খেলেই এমন রেকর্ড গড়তে পারবেন।

রোহিতের ব্যাটিং গড় ৩২.০৫, সেখানে বাবরের গড় প্রায় ৪০ ছুঁইছুঁই—৩৯.৮৩। তবে স্ট্রাইক রেটে রোহিত এগিয়ে (১৪০.৮৯), বাবরের ১২৯.২২। সেঞ্চুরির সংখ্যায়ও রোহিতের (৫) চেয়ে বাবর পিছিয়ে (৩), কিন্তু পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসে বাবর এগিয়ে—৩৬টি, যেখানে রোহিতের ৩২।

আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক বিরাট কোহলি, ১১৭ ইনিংসে ৪১৮৮ রান, গড় ৪৮.৬৯—শীর্ষ পাঁচে সবচেয়ে বেশি। এরপর আছেন ইংল্যান্ডের জস বাটলার (৩৮৬৯ রান, স্ট্রাইক রেট ১৪৮.৯৭) ও আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিং (৩৭১০ রান)। কোহলি, বাটলার ও স্টার্লিংয়ের সবারই একটি করে সেঞ্চুরি।

তবে আজ যদি বাবর ইতিহাস গড়েন, তাহলে তাঁর রেকর্ডটি অনেকদিন অক্ষত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, তাঁর আগে থাকা দুই ভারতীয় ব্যাটার—রোহিত ও কোহলি—ইতোমধ্যে টি–টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন।

রাওয়ালপিন্ডতে অনুশীলনে বাবর আজম

আজকের ম্যাচ বাবরের জন্য আরেকটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। প্রথমবারের মতো সালমান আলি আগার নেতৃত্বে মাঠে নামবেন তিনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, অন্যের অধীনে খেললে কেমন পারফর্ম করেন বাবর আজম?

বাবর আজমের পারফরম্যান্স বিভিন্ন অধিনায়কের অধীনে:
এ পর্যন্ত বাবর ছয় অধিনায়কের অধীনে টি–টোয়েন্টি খেলেছেন—নিজেসহ। ১২১ ইনিংসে তাঁর মোট রান ৪২২৩।

| অধিনায়ক             | ইনিংস | রান | গড় | স্ট্রাইক রেট | ১০০/৫০ |
|----------------------|--------|------|----------------|-------------|
| সালমান আগা        | ১ | ৪১ | ৪১.০০ | ১৪৬.৪২ | ০/০ |
| বাবর আজম          | ৭৮ | ২৬৪২ | ৩৭.৭৪ | ১২৯.৩৮ | ৩/২৩ |
| মোহাম্মদ রিজওয়ান | ৪ | ৩৭ | ৯.২৫ | ১২৭.৫৮ | ০/০ |
| শাহীন আফ্রিদি       | ৫ | ২১৩ | ৪২.৬০ | ১৪২.০০ | ০/৩ |
| সরফরাজ আহমেদ  | ৩০ | ১৪৮১ | ৪৯.৫২ | ১২৩.৪০ | ০/৯ |
| শোয়েব মালিক       | ৩ | ১৫১ | ৫০.৩৩ | ১৫৭.২৯ | ০/১ |

উত্থান মালিক ও সরফরাজের আমলে
বাবরের আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সূচনা হয়েছিল শোয়েব মালিক ও সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বে। সেই সময়ই নিজের ব্যাটিং দক্ষতা দিয়ে জায়গা পাকা করে নেন তিনি। স্ট্রাইক রেটও ছিল দারুণ—১৪৫–এর ওপরে।

নিজের নেতৃত্বে সেরা সময়
সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন নিজের অধিনায়কত্বে, যেখানে ৭৮ ইনিংসে করেছেন ২৬৪২ রান, গড় ৩৭.৭৪ এবং তিনটি সেঞ্চুরি। তবে আধুনিক টি–টোয়েন্টির দৃষ্টিতে তাঁর স্ট্রাইক রেট (১২৯.৩৮) কিছুটা কম।

রিজওয়ান ও শাহীনের অধীনে ছন্দপতন
রিজওয়ানের নেতৃত্বে ৪ ইনিংসে মাত্র ৩৭ রান করেছিলেন বাবর। শাহীন আফ্রিদির অধীনে তিনটি ফিফটি এলেও বড় ইনিংস আসেনি।

শুধু ব্যাটসম্যান বাবরের সুবিধা–অসুবিধা
নিজের নেতৃত্বে বাবর স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—যা তাঁর পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে অধিনায়ক হিসেবে মিডিয়া ও দলের ফলাফলের চাপ নিতে হয়, যা তাঁর স্ট্রাইক রেটে প্রভাব ফেলে।
অন্যের অধীনে খেললে সেই চাপ থাকে না, ফলে স্ট্রাইক রেট বাড়ে। তবে এতে তাঁর ব্যাটিং অবস্থান বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব হারানোর ঝুঁকিও থেকে যায়।

এবার পাকিস্তান চাইছে বাবরকে নাম্বার–৩ পজিশনে খেলাতে, যেখানে তাঁর কাছ থেকে প্রত্যাশা ১৩০–এর ওপরে স্ট্রাইক রেটে খেলার। এতে ধারাবাহিকতা কিছুটা কমলেও দলের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রুত রান আসবে বলে আশা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।