সালাহউদ্দিন বললেন

ঐকমত্য কমিশন এবং সরকারের কার্যক্রমে হতাশ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্দেশ্য ছিল ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা। এখন এখানে (সুপারিশে) এসে এই অবস্থায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যেসব প্রস্তাব দিয়েছে, সেখানে শুধু জাতিতে বিভক্তি হবে, অনৈক্য হবে এবং এখানে কোনো ঐকমত্য হবে না। এর ভিত্তিতে তারা কী অর্জন করতে চায় আমরা জানি না। আমরা অন্তর্বর্র্তী সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকায় দেখতে চাই। তারা যেন নিরপেক্ষভাবে আচরণ করে এবং তাদের সব কর্মকাণ্ডে যেন জাতি একটা আশ্বস্ত হতে পারে, ঐক্য থাকতে পারে সেভাবেই যেতে হবে। আমরা ঐকমত্য কমিশনের এবং সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে আজকে এখানে এসে হতাশা ব্যক্ত করছি।’

গতকাল বুধবার গুলশানে হোটেল লেকশোরে বিএনপির উদ্যোগে ‘ফ্রম রুল বাই পাওয়ার টু রুল অব ল : ট্রানজিশন টু এ ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যেসব প্রস্তাব নির্বাচন কমিশন থেকে একটা অধ্যাদেশে আরপিওতে এসেছে, তাতেও আমরা লক্ষ করেছি, উদ্দেশ্যমূলকভাবে নির্বাচন সংস্কারসংক্রান্ত কমিশনের একটি অনালোচিত প্রভিশন সেখানে অন্তর্ভুক্ত করে আরপিও অর্ডিন্যান্স পাস করা হয়েছে, সেটা এখন অর্ডিন্যান্স হওয়ার অপেক্ষায় আছে। যেমন, জোটভুক্ত যেকোনো রাজনৈতিক দল তাদের স্বাধীনতা ছিল নিজস্ব প্রতীকে অথবা জোটের যেকোনো প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবে। হঠাৎ করে তারা একটা অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বলে দিল যে, জোটভুক্ত হলেও তাদের নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। দেখলাম এতে আরেকটি রাজনৈতিক দল তাকে সমর্থন করে যাচ্ছে। এরকম পক্ষপাতমূলক আচরণ আমরা আশা করি না।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় ক্ষমতা কমিশন রেফারির বা ফ্যাসিলেটেটরের ভূমিকা পালন করছে। যে সুপারিশ তারা সরকারের কাছে প্রদান করেছে, তার মধ্যে একজন দস্তখতকারী প্রধান উপদেষ্টাও বটে; জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি হিসেবে দস্তখত করেছেন। সুতরাং সেটা একদিকে সরকারেরও একটা এনডোর্সমেন্ট হয়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে তো বটেই। কিন্তু রেফারিকে কখনো আমরা গোল দিতে দেখিনি।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গত ১৭ তারিখ যে দলিল স্বাক্ষর হয়েছে, সেই বিষয়গুলো জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় সম্পর্কিত সুপারিশে পুরোপুরি নেই। বলা হলো ৪৮টা দফার ওপর গণভোট করা হবে। কিন্তু সেই বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলাপই হয়নি।’

বিএনপির আন্তর্জতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীমের সভাপতিত্বে এবং ইসরাফিল খসরু ও ফারজানা শারমিন পুতুলের সঞ্চালনায় সেমিনারে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাফ উদ্দিন চৌধুরী, অধ্যাপক এসইউ মহিউদ্দিন নেহাল, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও অংশ নেন।