বরিশালের উজিরপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সন্ধ্যা নদীর দুই তীরে বাবুগঞ্জ ও উজিরপুর উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে জমজমাট নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নৌকাবাইচ উপলক্ষে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভিড় জমায় নদীর তীরে। বাইচ দেখতে আসা জনতা দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে মেতে ওঠে। প্রথমবারের মতো উজিরপুরের সন্ধ্যা নদীতে এমন জাঁকজমকপূর্ণ প্রতিযোগিতা দেখতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ার মতো ছিল।
বাইচ প্রতিযোগিতার কারণে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের মেজর এম. এ. জলিল সেতুর আশপাশে প্রায় এক ঘণ্টা যানজটের সৃষ্টি হয়। সেতুটি তখন ছিল মানুষের দখলে, ফলে যানবাহন চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদের তদারকিতে লাখো মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ৪টার দিকে শিকারপুর সরকারি শেরে বাংলা কলেজের সামনে থেকে শুরু হওয়া নৌকাবাইচে প্রায় ১ কিলোমিটার নদীপথ অতিক্রম করে মেজর এম. এ. জলিল সেতু পার হয়ে উজিরপুর পৌর এলাকায় গিয়ে প্রতিযোগিতার সমাপ্তি হয়।
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ৬টি দল এতে অংশ নেয়। দলগুলো হলো—
১️। মেজর এম. এ. জলিল দল
২️। ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর দল
৩️। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক দল
৪️। কবি সুফিয়া কামাল দল
৫️। জুলাই যোদ্ধা দল
৬️। কবি জীবনানন্দ দাশ দল
এর মধ্যে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক দল প্রথম স্থান অর্জন করে। যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে মেজর এম. এ. জলিল দল ও জুলাই যোদ্ধা দল।
বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের পরিচালক আসমা ফৌরদাউসী, উজিরপুর থানার ওসি আব্দুস সালাম প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “গ্রামীণ মানুষ নৌকাবাইচকে ঘিরে সব সময় উৎসাহিত থাকে। সেই আগ্রহ থেকেই আজ বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হওয়ায় উজিরপুরবাসীকে আমি অভিনন্দন জানাই।”