অসময় বৃষ্টিতে ধান-সবজির ক্ষতি, দুশ্চিন্তায় কৃষক

কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়ে দুই দিনের বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে শেরপুরে রোপা আমন ধান ও আলু,সবজি ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতির আশঙ্কায় কপালে ভাজ পড়েছে কৃষকের।

অসময়ের বৃষ্টিতে ফসলের মাঠে পানি জমেছে। আর বৃষ্টির সঙ্গে বাতাসের কারণে কাঁচা ও আধাপাকা ধানের শীষ নুয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জমির ধান পেকেছে। আর কয়েকদিন পরই কৃষকের ঘরে উঠাবে। অথচ তার আগে পাকা ধানসহ গাছগুলো মাটিতে পড়তে থাকতে দেখা গেছে। অনেকেই আবার পানি থেকেই আধাপাকা ধান কেটে নিচ্ছেন। বৃষ্টি না কমলে ক্ষেতে ধান, সবজি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

খবর পওয়া গেছে সদর উপজেলার চরশেরপুর, পৌরসভা, কামারের চর, ধলা, বাজিতখিলা, চরমোচারিয়া, বেতমারি ঘুঘড়াকান্দি ইউনিয়ন, ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিঝিকান্দা, সদর, হাতিবান্ধা, ধানশাইল ইউনিয়ন, নালিতাবাড়ী উপজেলার রাজনগর, নয়াবিল, রূপনারায়ণকুড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন, নকলা উপজেলার বানের্শদী, চন্দ্রকোনা, শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়া কাজির চর, ভেলুয়া, কুড়িকাহনিয়া, কাকিলাকুড়া ইউনিয়নে অসময়ের বৃষ্টিতে জমির ধান গাছ হেলে পড়ে গেছে।

শ্রীবরদী উপজেলার লংগড়পাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান, শামছুল হোসেন, সেকান্দর মিয়াসহ অনেকেই ঘরে ফসল ঠিকঠাকভাবে উঠবে কিনা তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন।

তারা জানান, প্রায় শেষ মুহূর্তে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এমনিতেই তাদের জমি তুলনামূলক নিচু। এবার ঋণ করে ধান চাষ করেছিলেন, ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু শেষ মূহুর্তের বৃষ্টিতে তারা ক্ষতিতে পড়ে গেছেন।

সদরের চরশেরপুর ইউনিয়নের যোগিনীবাগসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা জানায়, শীতকালীন সবজির ক্ষেতে হঠাৎ বৃষ্টিতে পানি জমেছে। এতে আলু, মূলা ও লালশাকের ক্ষতি হবে।

শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় মোন্থার প্রভাবে সৃষ্ট লঘুচাপে গত ২৯ অক্টোবর সকাল থেকে থেমে থেমে হালকা বৃষ্টি ও বাতাস হচ্ছে। এর ফলে জেলায় ৩০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতির মুখে পড়েছে। আর ১৫ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজির জমিতে পানি উঠেছে। আমরা কৃষকদের সেগুলো তুলে আঁটি বেঁধে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। আর যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে ক্ষতির আশঙ্কা কেটে যাবে।