পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনরত ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা আজ সোমবার বিক্ষোভের ডাক দিয়ে গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সড়ক ছেড়েছেন। সন্ধ্যায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তারা সড়ক ছেড়ে দেন।
এর আগে দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকলে শিক্ষকদের কদম ফোয়ারার সামনে আটকে দেয় পুলিশ। এরপর থেকে সেখানেই সড়ক আটকে বিক্ষোভ করেন শিক্ষকরা। এর মধ্যে শিক্ষক প্রতিনিধিরা সচিবালয়ে যান কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে। সন্ধ্যায় সচিবালয় থেকে আন্দোলনস্থলে ফিরে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান কাজী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দাবি পাঁচটি পাঁচটিই তারা মেনে নেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আছে। এর মধ্যে একটা দাবি আজ সোমবার স্বাক্ষর হবে।
আজ দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করবেন জানিয়ে মোখলেছুর বলেন, ‘আমাদের দাবি যদি সরকার কর্মসূচি শুরুর আগে মেনে না নেয়, তাহলে কোনো জনদুর্ভোগ হলে আমাদের কোনো দায় নেই। আমরা এজন্য দায়ী না। এর দায়ভার রাষ্ট্রের।’
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শামসুল আলম বলেন, ‘সোমবার বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়ে আমরা রাস্তা ছেড়ে দিচ্ছি। তবে অবস্থান কর্মসূচি চলবে।’
গতকাল দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দুপুর ২টায় ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা যমুনার উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশ তাদের কদম ফোয়ারার সামনে আটকে দেয়। সেখানেই বসে পড়েন শিক্ষকরা। এতে পল্টন, হাইকোর্ট মৎস্যভবন, সচিবালয়, শাহবাগসহ আশপাশের রাস্তায় দীর্ঘ যানজট দেখা যায়।
আন্দোলনরত এক শিক্ষক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ বাদা দেয়। আমাদের শিক্ষকদের এর আগে মারধর করেছে। এটা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যাবে না। দুপুরে “লং মার্চ টু যমুনা” আন্দোলনে পুলিশ বাদা দেয়। আমাদের কদম ফোয়ারার সামনেই জোহরের নামাজ আদায় করেছি। পরে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করি। সরকারের প্রতি আহ্বান, বছরের শুরুতে দেওয়া জাতীয়করণের আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়ন করুন এবং আমাদের পাঁচ দফা দাবি মেনে নিন।’
সব ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণসহ ৫ দাবিতে গত ১৩ অক্টোবর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি জাতীয়করণের ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এমপিওভুক্তির জন্য কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ যে ১০৮৯টি প্রতিষ্ঠানের নথি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠিয়েছে, তার দ্রুত অনুমোদন দিতে হবে। অনুদানহীন স্বীকৃত ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোর এমপিও আবেদনের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো প্রাক-প্রাথমিক পদ সৃষ্টি করতে হবে। ইবতেদায়ি মাদ্রাসার জন্য আলাদা অধিদপ্তর স্থাপন করতে হবে।
ইসলামি ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে যে শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে, সেই আলিয়া মাদ্রাসা পদ্ধতিতে পঠন-পাঠন হয় ইবতেদায়ি মাদ্রাসায়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমমান এই ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন হয় ১৯৮৪ সালে। এরপর চার দশক কেটে গেলেও শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শিক্ষকরা বলছেন, তাদের অনেকেই কর্মজীবন শেষ করেছেন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই। অথচ ১৯৭৩ সাল থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হচ্ছে; ২০১৩ সালেও ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি হয়েছে।