ফিলিস্তিনের গাজায় ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কমপক্ষে ১৯৪ বার লঙ্ঘন করেছে। ফিলিস্তিন সরকারের মিডিয়া অফিস গত রবিবার এ তথ্য প্রকাশ করে। পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতেহ জানান, লঙ্ঘনের মধ্যে সীমান্ত ‘হলুদ রেখা’ অতিক্রম করে সামরিক অভিযান, গুলিবর্ষণ, বিমান হামলা, আবাসিক এলাকায় আক্রমণ এবং চিকিৎসাসামগ্রী ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানোয় বাধা অন্তর্ভুক্ত।
‘হলুদ রেখা’ হলো চুক্তি অনুসারে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের অদৃশ্য সীমানা, যা গাজা স্ট্রিপকে দক্ষিণ গাজা সিটি থেকে খান ইউনিসের উত্তরে বিভক্ত করে।
থাওয়াবতেহ বলেছেন, চুক্তিটি স্বস্তি আনবে বলে আশা করেছিলাম, কিন্তু দখলদার বাহিনী নিয়মিত ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা লঙ্ঘন করছে।
তদন্ত রিপোর্ট অনুসারে, ইসরায়েলি যানবাহন বেসামরিক এলাকায় প্রবেশ করে হামলা চালাচ্ছে, ফলে শতাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৯ অক্টোবর রাতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১০৪ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৬ জন শিশু এবং ২০ জন নারী। এটি ছিল চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন। ইসরায়েল দাবি করে, হামাসের সৈনিকরা রাফায় ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে চুক্তি লঙ্ঘন করেছে, যাতে একজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। তবে হামাস এ অভিযোগ অস্বীকার করে এবং ইসরায়েলের হামলাকে ‘চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে।
চুক্তিতে ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার, ৩ লাখের বেশি তাঁবু ও মোবাইল হোম সরবরাহের প্রতিশ্রুতি ছিল, কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। ফলে ২ লাখ ৮৮ হাজার পরিবার রাস্তায় বা খোলা আকাশের নিচে বাস করছে। ধ্বংসস্তূপে এখনো ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি নিখোঁজ বা নিহত। গাজার ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস, প্রাথমিক ক্ষতি ৭০ বিলিয়ন ডলার। রাফাহ সীমান্তে ৬ হাজার ত্রাণ ট্রাক আটকে থাকায় মানবিক সংকট বাড়ছে। ইউএনআরডব্লিউএ-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, খাদ্যাভাবে ৫ লাখ শিশু ঝুঁকিতে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, এসব লঙ্ঘন যুদ্ধাপরাধের শ্রেণিতে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ৯ অক্টোবর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।