ভারতের শহুরে তরুণ পেশাজীবীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে ওজন কমানোর ইনজেকশন বা তথাকথিত “ওয়েট-লস জ্যাব”। মুম্বাইয়ের খ্যাতনামা ডায়াবেটোলজিস্ট ডা. রাহুল বক্সি জানিয়েছেন, তাঁর কাছে ডায়াবেটিস রোগীদের পাশাপাশি সমান সংখ্যক তরুণ যোগাযোগ করছেন এই ইনজেকশন নেওয়ার জন্য। এক ২৩ বছর বয়সী তরুণ এমনকি কর্পোরেট চাকরির চাপের কারণে বেড়ে যাওয়া ১০ কেজি ওজন কমাতে এই ইনজেকশন নিতে চেয়েছিলেন। “এই ওষুধ কোনোভাবেই সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নয়,” সতর্ক করেছেন ডা. বক্সি।
দেশজুড়ে এই প্রবণতা এখন দ্রুত বাড়ছে। জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ যেমন সেমাগ্লুটাইড এবং টারজেপাটাইড এখন ভারতের সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন ওজন কমানোর ওষুধে পরিণত হয়েছে। মূলত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি এই ইনজেকশনগুলো ক্ষুধা কমিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে। তবে চিকিৎসকদের মতে, ভুল ব্যবহারে এর ফলে ওজন পুনরায় বেড়ে যাওয়া, পেশি ক্ষয় এর মত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
স্থুলতার দিক থেকে ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় , যেখানে ৭ কোটিরও বেশি ডায়াবেটিস রোগী রয়েছেন। ২০২১ সালের ১৬ মিলিয়ন ডলারের অ্যান্টি-ওবেসিটি ওষুধের বাজার এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ মিলিয়ন ডলারে।প্রতিমাসে এই চিকিৎসার খরচ চোদ্দ থেকে সাতাশ হাজার ভারতীয় রুপি-যা অনেকের নাগালের বাইরে।
আগামী মার্চে সেমাগ্লুটাইডের পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হলে বাজারে আসবে এর সস্তা সংস্করণ। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই সহজলভ্যতা অবৈধ বিক্রি ও ভুল ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়াবে। ইতিমধ্যেই ভারতে বিভিন্ন জিম ট্রেইনার, বিউটি ক্লিনিক এবং অনলাইন ফার্মেসি যথাযথ চিকিৎসা পরামর্শ ছাড়াই এই ওষুধ সরবরাহ করছে ।
চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করে বলছেন, স্থূলতা শুধুই জীবনযাপনের সমস্যা নয়, এটি দীর্ঘস্থায়ী এক রোগ। ব্যারিয়াট্রিক সার্জন ডা. মুফাজ্জল লাখদাওয়ালা জানান,'এই ওষুধ শুধুমাত্র জীবনহানীকর স্থূলতার জন্যই ব্যবহার করা উচিত, সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যে নয়। আর যাদের লক্ষ্য কেবল কয়েক কেজি ওজন কমানো, তাদের জন্য তাঁর উপদেশ চিনি বাদ দিয়ে সুষম খাবার খাওয়া আর সপ্তাহে অন্তত চার দিন ব্যায়াম করা। এতে ইনজেকশনের চেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে।