নির্বাচনে পুলিশের অবহেলা থাকলে সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হবে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অবৈধভাবে সহায়তা বা বিশেষ সুবিধা দিলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণার পর ডিএমপির উত্তরা পূর্ব থানার ওসি আলহামদুলিল্লাহ উল্লেখ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে পুলিশ যদি কোনো প্রার্থীর বিশেষ সুবিধা দেয়, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘কারও কোনো
ধরনের নেগলিজেন্স থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। সঙ্গে সঙ্গে তাদের পানিশমেন্টের আওতায় নিয়ে আসা হবে। আশা করি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হবে।’
বিগত সরকারের সময় লুট হওয়া সব অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। এর মধ্যে বিমানবন্দরে কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার ঘটনায় সাতটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র চুরি হয়ে গেল। এমন একটি স্পর্শকাতর জায়গা থেকে কীভাবে অস্ত্র চুরি হলো এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আগুনের পর কমিটি গঠন করা হয়েছে। অস্ত্র আদৌ চুরি হয়েছে কি না, তা তদন্তের পর জানাতে পারব। চুরি হলে তখন কার মাধ্যমে হয়েছে এবং কে দায়ী তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এখনো স্টাব্লিশ করতে পারেনি কয়টি অস্ত্র চুরি হয়েছে।’
বিমানবন্দরে কার্গো ভিলেজে আগুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যেকটি দুর্ঘটনার পর একটি জিডি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এই বক্তব্যগুলোর অনেক সময় সত্যতা থাকে না। কিন্তু সাংবাদিকদের বক্তব্য সত্যি থাকে। সেজন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করব উসকানিমূলক বক্তব্যগুলো সাংবাদিকরা বেশি প্রতিহত করতে পারেন, যদি আপনারা সত্য সংবাদটা দিয়ে দেন। কোনো ধরনের সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’
উসকানিমূলক বক্তব্য দেশের বাইরে থেকে বেশি আসে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশে ইউটিউব আছে। দেশে বসেও যে কেউ করে না তাও নয়। দু-একজন যারা করছে, তাদের পুলিশ আইনের আওতায় নিয়ে আসছে।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘রাউজানে অভিযান পরিচালনা করে ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসীও ধরা হয়েছে। রাউজান, ফটিকছড়ি একটু ডিফিকাল্ট এলাকা। আগেও ছিল, এখনো ডিফিকাল্ট। এসব জায়গায় অপরাধ করে অপরাধীরা পাহাড়ে চলে যায়।’
পুলিশ কমিশনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়নি, তবে আল্লাহ দিলে পুলিশ কমিশন হয়ে যাবে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হোক, সে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য কিংবা অন্য কেউ, প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হবে।
নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার থাকবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় বন্ধ হবে কেন। আমরা বন্ধ করছি নাকি। নির্বাচন আসুক সে সময় জিজ্ঞেসা কইরেন।’