অতিথি আপ্যায়ন অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। অতিথি এলে ঘরের আবহ পাল্টে যায়, উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ে হৃদয়ে। মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গাঢ় হয় অতিথি আপ্যায়নের মাধ্যমেই। ইসলাম এই সৌন্দর্যপূর্ণ আচরণকে ইমানের অঙ্গ এবং ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ বলে আখ্যায়িত করেছে। যে সমাজে অতিথি আগমনে মানুষ আনন্দিত হয়, সেখানে দয়ার প্রবাহ থামে না। কারণ অতিথি বরকতের বাহক এবং রহমতের ছায়া হয়ে আসে।
বর্তমানে ব্যস্ততার অজুহাতে কিংবা বিলাসিতার মানদণ্ডে পড়ে অনেকে অতিথিকে বোঝা ভাবতে শুরু করেছে। অথচ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেহমানকে মর্যাদা দিতে বলেছেন। তিনি নিজেও ছিলেন সর্বোচ্চ আতিথেয়তার উদাহরণ। তার ঘরে ছিল না দামী আসবাব কিংবা বিলাসী আয়োজন, কিন্তু তার আতিথ্যে ছিল আন্তরিকতায় ভরপুর। সেই আদর্শ মুসলিম সমাজে আজও অনুকরণের দাবিদার।
মেহমান পেয়ে খুশি হতে হবে এবং তাকে মহান আল্লাহর নেয়ামত জেনে তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে হবে। মেহমানকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করা, উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো ইসলামের নির্দেশ। সেই সঙ্গে মেহমানের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো জায়গায় থাকা-খাওয়া, বিশ্রাম, অজু-গোসল এবং ইবাদত-বন্দেগির ব্যবস্থা করা। মেহমান এলাকায় নতুন হলে স্থানীয় প্রয়োজনীয় রীতি-রেওয়াজ ও তথ্য তাকে জানানো, মেহমানের সুবিধা-অসুবিধা এবং নিরাপত্তার বিষয়ে খেয়াল রাখা। নিজেদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা মেহমানকে বুঝতে না দেওয়া। এতে মেহমান বিব্রতবোধ করতে পারেন। এ বিষয়ে কোরআনে কারিমে এসেছে, ‘আর তারা তাদের (মেহমানদের) নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দেয়, নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও। যাদের অন্তরের কার্পণ্য থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফলকাম।’ (সুরা হাশর ৯)
ইসলামের ইতিহাস ও হাদিসে মেহমানদারি, খানার দাওয়াত দেওয়া, গ্রহণ করা ও আপ্যায়নের বিষয়ে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। হজরত ইব্রাহিম (আ.) দিনে অন্তত একবেলা মেহমান ছাড়া আহার করতেন না। নবী করিম (সা.) নিজে মেহমানদের খুব কদর করতেন। আতিথেয়তার ফজিলত বর্ণনা করে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানের সমাদর করে।’ (সহিহ মুসলিম ৭৯)
আসলে অতিথির খাবার মহান আল্লাহই বরাদ্দ করেন, আর সেই বরাদ্দ যখন অতিথি ভোগ করে তখন গৃহস্থের গুনাহ মাফ হয়। সুতরাং সাময়িক ও পরকালীন দুই ধরনের আনন্দ নিয়ে আসে অতিথি। তাই আনন্দ নিয়ে অতিথির আপ্যায়ন করা কাম্য।
লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও ধর্মীয় নিবন্ধকার