ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) সংসদীয় আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার এই পদ ছেড়ে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে গতকাল বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের জানান। অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান শৈলকুপা এলাকার বাসিন্দা।
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মামলায় গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। বেলা দেড়টা পর্যন্ত শুনানি করে তিনি তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। শুনানির বিস্তারিত সাংবাদিকদের অবহিতকালে ব্রিফিংয়ের শেষ দিকে এক সাংবাদিক তাকে ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে ভোটে অংশ নেওয়া সংক্রান্ত প্রশ্ন করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমি ভোট করব। আমি নমিনেশন (মনোনয়ন) ওখানে (ঝিনাইদহ-১) চেয়েছি। আমি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে আছি এখনো। আমার অ্যাটর্নি জেনারেল পদ ছেড়ে দিয়ে আমি ভোট করব। যখন সময় আসবে তখন করব।’ বিএনপির মনোনয়ন পাচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নে হাস্যোজ্জ্বল আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি আশাবাদী।’
গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যে ৮ আগস্ট রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসাদুজ্জামান। তবে, এই পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক পদ ছাড়েন। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রায় ১৫ মাস ধরে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। গত সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২৩৭ আসনে দলটির প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে, সেই তালিকায় ঝিনাইদহ-১ আসনে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪ (১) অনুচ্ছেদে অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগের বিষয়ে বলা আছে। এতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির সন্তোষ অনুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল স্বীয় পদে থাকতে পারেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক পান তিনি। এছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশের যে কোনো আদালতে তার বক্তব্য বা শুনানি করতে পারেন।