জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের বিষয়ে আবারও নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন হলে বিভ্রান্তি ও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। জনগণের পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই পৃথক দিনে গণভোট আয়োজন করতে হবে।
গতকাল বুধবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
হামিদুর রহমান বলেন, গণভোটের বিষয়ে আমরা গত ৩ তারিখে আটটি দল বসেছিলাম। আমাদের পাঁচ দফা দাবির ভিত্তিতে আন্দোলন চলমান আছে। সে আন্দোলনের মধ্যে আমরা মূল ফোকাস দিয়েছি আদেশ জারি (জুলাই সনদের অধ্যাদেশ নয়, আদেশ জারি)। এটা বিলম্বিত হচ্ছে, অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমরা জানি, এ ধরনের আদেশ জারি হতে এক-দুই দিন লাগে। কিন্তু আজ প্রায় এক সপ্তাহ অতিক্রম করছে, এখনো আদেশ জারি হয়নি। আমরা বলেছি, অনতিবিলম্বে জারি করতে হবে।
তিনি বলেন, গণভোট এই আদেশটাকে আরও শক্তিশালী করবে, মজবুত করবে। কারণ সংস্কারের মধ্যে শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত এসেছে, কিন্তু রাজনৈতিক দলের বাইরেও জনগণ আছে। জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এই আদেশ অনুমোদিত হলে, এটা রাষ্ট্রীয় দলিল হবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নতুন পথে যাত্রা শুরু করবে, আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। এজন্য আমরা বলেছি, গণভোট যেন যথার্থভাবে হয়, যেনতেনভাবে না হয়।
একই দিনে ভোট হলে সমস্যা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারণ একই দিনে ভোট মানে হচ্ছে আপনার ভোটে যদি কোনো গণ্ডগোল হয়, সেটা স্থগিত হবে, ফলে গণভোটের ফলও স্থগিত হয়ে যাবে। তাছাড়া মানুষের মনোযোগ থাকবে প্রার্থী বা দলের নির্বাচনে, তখন গণভোট অবহেলিত হবে, ভোট কম পড়বে। তখন অনেকে বলতে পারে কম ভোট পড়েছে, মানে জনগণ জুলাই সনদ চায় না। নানা কনস্পিরেসি হতে পারে। তাই আমরা বলেছি, আলাদা দিনে, নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন করতে হবে।
গণভোটের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দাবি একেবারেই সুস্পষ্ট গণভোট নির্বাচনের আগেই এবং পৃথক দিনে হতে হবে।
বৈঠকে প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও পোস্টাল ব্যালট রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয় জানিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ জানান, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ১৮ তারিখ থেকে অঞ্চলভিত্তিকভাবে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, প্রবাসীরা যেন সহজে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন কিছু জটিল শর্ত বাতিল করতে সম্মত হয়েছে। শুধু জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি ঠিকানা দিলেই যথেষ্ট হবে পানি বা বিদ্যুতের বিলের মতো অতিরিক্ত কাগজপত্র আর লাগবে না বলে জানান তিনি।