বিএনপির মনোনয়ন চাওয়া নেতা অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

গাজীপুরের শ্রীপুরে বরকুল গ্রামে রাতভর যৌথ বাহিনীর অভিযানে গাজীপুর-৩ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চাওয়া এবং পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নাম হাজি এনামুল হক মোল্লা (৫৫)। এ সময় বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তলসহ (আগ্নেয়াস্ত্র) উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ওই বাড়ি থেকেই আরও ছয় কর্মী-সহযোগীকেও আটক করা হয়। বিএনপি নেতার বহুতল ভবনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নামেন যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র তল্লাশি করে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র (বিদেশি পিস্তল), চারটি ওয়াকিটকি, গুলি ও গুলির ম্যাগাজিন উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী।

গত বুধবার রাত ২টা থেকে অভিযান শুরু করে ভোর পর্যন্ত চলে। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীপুর থানা পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলেন শওকত মীর (৪৫), জাহিদ মিয়া (৪০), মোস্তফা কামাল (৩২), সিদ্দিকুর রহমান (৩৪), বুলবুল মিয়া (৩৫) ও তোফাজ্জল হোসেন (৪৫)। সবাইকে পুলিশ হেফাজতে দিয়েছে যৌথ বাহিনী।

গাজীপুর আর্মি ক্যাম্পের মেজর খন্দকার মহিউদ্দিন আলমগীরের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালান।

গ্রেপ্তার হওয়া এনামুল হক মোল্লা বরমী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের (সাবেক) দায়িত্বে ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেল-জুলুমের ভয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আবরে প্রবাস জীবনে চলে যান। তার নামে আগেও এলাকায় নানা সন্ত্রাসী, ভূমিদখল, লুটপাট চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের অভিযোগ ছিল। রয়েছে হত্যা মামলাও। এলাকায় সন্ত্রাসী এনামুল নামেই সবাই তাকে চেনেন।

পরে সৌদি আরবে গিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। সেখানেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সৌদি আরবের মক্কা মেসফালাহ অঞ্চলের বিএনপির সভাপতি হন।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের অভিযানে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন মিছিল বের করেছে। সকালেই পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে মিছিল করে তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন কার্যকরী তৎপরতায় তাদের স্বাগত জানায়। পরে সংক্ষিপ্ত পথসভা করে তারা। বিএনপি নেতারা বলেন, সন্ত্রাসীর কোনো দলীয়, পরিচয় নেই। সে সন্ত্রাসী এটাই পরিচয়। দেশের প্রচলিত আইনে যেকোনো সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যত বড় নেতাই হোক অপরাধী হলে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, এনামুল এক সময় এ অঞ্চলের মূূর্তিমান আতঙ্ক ছিলেন। তার নিজস্ব অস্ত্রধারী বাহিনী ছিল। যেকোনো অপরাধেই ছিল তার আধিপত্য। তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে। পরে কৌশলে আওয়ামী লীগ আমলে সৌদি আরবে চলে যান। এরপর গত ৫ আগস্টের পর দেশের পটপরিবর্তন হলে সৌদি আরব থেকে ডাকঢোল পিটিয়ে হেলিকপ্টারে করে দেশে ফেরেন এনামুল হক মোল্লা। দেশে ফিরেই বিএনপি থেকে গাজীপুর-৩ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ঘোষণা দিয়ে এলাকায় পোস্টার ও গণসংযোগ শুরু করেন। এরপর আস্তে আস্তে তার পুরনো বাহিনীগুলো সক্রিয় করতে থাকেন। তারা বলেন, গাজীপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর মনোনয়ন নিশ্চিত করলে এনামুল হক মোল্লা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়বেন বলে ঘোষণা দেন।

গ্রেপ্তার হওয়া এনামুলের পরিবারের অভিযোগ যৌথ বাহিনী বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করেছে। সিসি ক্যামেরা নিয়ে গেছে। আসবাবপত্র তছনছ করেছে। এ সময় পরিবারের অন্যরা চরম আতঙ্কিত ছিলেন।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মহম্মদ আবদুল বারিক বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এনামুলের বাড়িতে যৌথ বাহিনী অভিযানে যায়। পরে এনামুল হক মোল্লার বহুতল ভবনের বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি করে দুটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, চারটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। দুপুরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে তার নামে আগে আরও কোনো মামলা বা সন্ত্রাসী কর্মকা- আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই ও খোঁজখবর চলছে। বিস্তারিত পরে বলা যাবে।