ভেস্তে গেল ইস্তাম্বুল শান্তি আলোচনা

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা কোনো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। গতকাল শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ায় গত মাসে (অক্টোবরে) কাতারে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে গত বৃহস্পতিবার শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার দিন এবং শুক্রবার আলোচনা চলাকালেই আফগানিস্তান-পাকিস্তান যৌথ সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচ আফগান নাগরিক নিহত হয়। এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। যদিও দুপক্ষই যুদ্ধবিরতি চুক্তি অব্যাহত রাখতে আগ্রহী বলে দাবি করেছে।

শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়া প্রসঙ্গে গতকাল তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে কারণ ইসলামাবাদ জোর দিয়েছিল যে, আফগানিস্তানকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি এই দাবিটিকে আফগানিস্তানের ‘সক্ষমতার বাইরে’ বলে অভিহিত করেন। যুদ্ধবিরতি চুক্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘চলমান যুদ্ধবিরতি আমাদের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত লঙ্ঘিত হয়নি এবং তা অব্যাহত থাকবে।

শুক্রবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেছেন, ইস্তাম্বুলে সীমান্ত সংঘাত নতুন করে শুরু হওয়া বন্ধ করতে আফগানিস্তানের সঙ্গে যে শান্তি আলোচনা চলছিল, তা ভেঙে পড়েছে। তবে আফগানিস্তানের তরফ থেকে কোনো আক্রমণ করা না হলে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। প্রতিবেশী দুই দেশকে সংলাপের টেবিলে আনতে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে কাতার ও তুরস্ক।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসের মূলোৎপাটনের জন্য আফগানিস্তানের সহযোগিতা চেয়েছিলাম এবং কাতার-তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরা আমাদের অবস্থানকে সমর্থন করেছে। এজন্য তাদের আমাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ। এমনকি আফগান প্রতিনিধিরাও আমাদের অবস্থানের সঙ্গে সম্মত হয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, কিন্তু যখনই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রসঙ্গ এলো, তখন তারা পিছিয়ে গেলেন। তারা চান, তাদের মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে যেন আমরা আস্থা রাখি। কোনো আন্তর্জাতিক আলোচনা সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়া অসম্ভব।

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর গত মাসে দেশ দুটি সবচেয়ে ভয়াবহ সীমান্ত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুপক্ষের ডজনখানেক মানুষ নিহত হয়। পরে গত মাসেই কাতারের দোহায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর গত সপ্তাহে ইস্তাম্বুলে শুরু হয় দেশ দুটির মধ্যে শান্তি আলোচনা, যা আপাতত কোনোপ্রকার চুক্তি ছাড়াই শেষ হলো।