কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়নপ্রত্যাশী ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত কর্নেল (অব.) এম আনোয়ার-উল আজিমের মেয়ে সামিরা আজিম দোলার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (৯ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের ছনগাঁও গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন, আবদুল হালিম, নুরু, শামছুল হক, যুবদল নেতা আবুল কাশেম, ফয়সল, জাহিদুল ইসলাম, সাগর, পারভেজ, আলাউদ্দিন, মন্টু ও মোরশেদ আলমসহ অন্তত ৩৫ জন রয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে সবার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
সামিরা আজিম দোলার অনুসারীদের অভিযোগ, বিএনপির কেন্দ্রীয় শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ও লাকসাম উপজেলা সভাপতি মো. আবুল কালামের অনুসারীরা এই হামলা চালান।
এ বিষয়ে দোলার দুই অনুসারী জসিম উদ্দিন ও জাহিদুল ইসলাম বলেন, গত ৩ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সারাদেশে ২৩৭ আসনের মনোনয়ন ঘোষণা করেন। ওই তালিকায় কুমিল্লা-৯ আসনে আবুল কালামের নাম থাকলেও সামিরা আজিম দোলার নাম ছিল না। তবুও তিনি চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার আশায় মাঠে সক্রিয় ছিলেন এবং তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি প্রচারে লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন।
রবিবার সকালে কান্দিরপাড় ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে উঠান বৈঠকের আয়োজন করেন দোলা। বেলা ১১টার দিকে কেমতলি গ্রামে বৈঠক শেষে গাড়িবহর নিয়ে ছনগাঁও যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষের অনুসারীরা তার গাড়িবহর আটকে ভাঙচুর ও হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তারা। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এতে সামিরা আজিম দোলা ও তার বশে কয়েকজন অনুসারী আহত হন।
এ বিষয়ে সামিরা আজিম দোলা বলেন, আমার বাবা কর্নেল আজিম লাকসাম-মনোহরগঞ্জের মানুষের প্রিয় নেতা ছিলেন। তার জনপ্রিয়তা আর নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় আমি দলের ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করছি। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ আবুল কালামের নির্দেশে মোশারফ হোসেন মুশুর নেতৃত্বে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। আমাকে ও হাজি জসিম উদ্দিনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
অপরদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ও লাকসাম উপজেলা সভাপতি মো. আবুল কালাম বলেন, সামিরা আজিম দোলার নেতাকর্মীরা গরু জবাই করে মাংস ভাগাভাগি করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আমাদের নেতাকর্মীরা থামাতে গেলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে আমাদের চারজন কর্মী আহত হয়েছে। বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত।
এ বিষয়ে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।