প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষ থেকে গায়েব নথি উদ্ধার

খুলনা জেলা পরিষদ থেকে গায়েব হওয়া গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহাবুবুর রহমানের অফিস কক্ষ থেকে ছয়টি নথি উদ্ধার করা হয়। যা নিয়ে জেলা পরিষদে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে গায়েব হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি নথি উদ্ধারের পর গতকাল সোমবার জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী মো. সহিদুল ইসলাম খুলনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এর আগে গত ২১ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয় ওই নথির তথ্য চেয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জেলা পরিষদ শাখার উপসচিবের কাছে চিঠি দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খুলনা জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব হয়ে যায়। এ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় ৯ আগস্ট জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খুলনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও ১৭ আগস্ট জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বাদী হয়ে একই থানায় অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে বৈষম্যবিরোধী চাকরির কোটা সংস্কার ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০০ থেকে ২৫০ জন ব্যক্তি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান ফটক ভেঙে হামলা চালায়। এ সময় তারা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিসহ ১ কোটি ৭২ লাখ ৩৬ হাজার ৬২০ টাকার মালামাল পুড়িয়ে দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এ ছাড়া আসামিরা ১ কোটি ৮৯ লাখ ৫ হাজার ৩৬০ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।

এজাহারে আরও বলা হয়, মালামাল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার পর পরিদর্শন করে দেখা যায়, জেলা পরিষদ ভবনের প্রতিটি কক্ষে থাকা জিনিস আসামিরা নিয়ে গেছে। সেই সব জিনিসের মধ্যে রয়েছে, চেকবই, চেক রেজিস্ট্রার, ক্যাশবই, ভাউবই, জমি ইজারা রেজিস্ট্রার, অডিট রেজিস্ট্রার, খেয়াঘাট রেজিস্ট্রার, ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত নথিসহ অন্য প্রকল্পের নথিপত্র।

এদিকে গত ২১ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয় ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থ বছর পর্যন্ত যে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন ও চলমান রয়েছে তার তালিকা ও বরাদ্দকৃত সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রের তথ্য চেয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জেলা পরিষদ শাখার উপ-সচিবের কাছে চিঠি দেয়। কিন্তু ওই নথিপত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে খুলনা জেলা পরিষদ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়।

জেলা পরিষদ সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর ২৮৪টি নথি উদ্ধার হলেও গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি নথি খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে, গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তারের নেতৃত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই নথির খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। একপর্যায়ে নথিগুলো পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহাবুবুর রহমানের কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী মো. সহিদুল ইসলাম খুলনা সদর থানায় জিডি করেছেন।

এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহবুবুর রহমানের কক্ষে সোমবার দুপুরে প্রকল্পের ফাইল পাওয়া গেছে। যে ফাইলগুলো পাওয়া গেছে এই ফাইলগুলো গত ২১ এপ্রিল দুদক অনুসন্ধানের জন্য আমাদের কাছে চেয়েছিল। চাহিত তথ্যের মধ্যে ২০১৮-১৯ থেকে ২৩-২৪ অর্থবছরে এডিপি ও রাজস্ব তত্ত্বাবধানে জেলা পরিষদ যে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সেই তথ্য আছে এই ফাইলে। গত ৫ আগস্টের পর ২৮৪টি নথি উদ্ধার হলেও তার ভেতরে এই ছয়টি নথি ছিল না।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ফাইল উদ্ধারের বিষয়টি স্থানীয় সরকার ও দুদককে আমরা মৌখিকভাবে জানিয়েছি। নথি উদ্ধারের ঘটনায় আমরা সাধারণ ডায়েরি করছি। যেহেতু ৫ আগস্টের পর নথি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় একটি জিডি ও মামলা হয়েছিল।

নিজ অফিস কক্ষ থেকে গায়েব হওয়া গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার সম্পর্কে খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মাহাবুবুর রহমান বলেন, কিছু ফাইল কর্মচারীরা পেয়ে আমার আলমারিতে রেখেছিল। ওটা এমন কিছু না। এই নথিগুলো দুদক চেয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে আমার স্মরণে নেই।