বিএনপিকে সতর্ক করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়েছেন, তারেক রহমান পালাবেন কোথায়? পুরো বাংলাদেশ রিফর্মে যাচ্ছে। বিএনপিকেও যেতে হবে। আগে সাকিব আল হাসান, মাশরাফী ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়ে নৌকার ভোট চাইতেন। দেশে নতুন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর এসেছে যারা ধানের শীষে ভোট চায়। আমরা শহীদ পরিবারের পাশে আছি। তবে, চব্বিশের কার্ড খেলে কেউ নব্য ফ্যাসিস্ট হতে চাইলে আমরা বসে থাকব না।’ গতকাল সোমবার বাংলা মোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে ‘জুলাই সনদে শ্রমিক শ্রেণির রাজনৈতিক অবমূল্যায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পাটওয়ারী বলেন, ‘শুধু দাঁড়িপাল্লার ব্যাজ বা ধানের শীষের ব্যাজে ভোট দিলে কোনো সংস্কার বাস্তবায়ন হবে না। আমরা আগামী সংসদে একক নেতৃত্বের পার্লামেন্ট দেখতে চাই না।’
এনসিপির এই মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, “কেউ সমাজকল্যাণ করে যেসব ভোট বাড়িয়েছেন, কেউ শহীদ পরিবার থেকে ‘পলিটিক্যাল ব্রান্ড অ্যাম্বাসাডর’ যোগ করে, সামনে এই দুইটা দলের ভোট ব্যাংক নিচের দিকে নামবে। আগামীতে ভোট পাবে কারা? আগামী নির্বাচনের আগে একটি সংস্কার জোট হবে। সংস্কার জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। আমরা দেশবাসীকে আহ্বান জানাব, আপনাদের বুকে দাঁড়িপাল্লার ব্যাজ থাকুক বা ধানের শীষের ব্যাজ থাকুক, বুঝে গিয়ে সংস্কার জোটে ভোট দিয়ে আসবেন।”
তিনি বলেন, ‘যদি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না হয় এবং নির্বাচন যদি পিছিয়ে যায়, তাহলে আপনারা দুই দল (বিএনপি ও জামায়াত) নির্বাচন পেছানোর জন্য দায়ী থাকবেন। দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের একটি পদ্ধতি বের করে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে সমঝোতার ডেডলাইন শেষ। দুটি দল থেকে মাঠে মারামারি, তর্কযুদ্ধ দেখলাম, কোনো সমাধান দেখলাম না। সরকার যদি ঐকমত্য কমিশনের ভাষ্য থেকে বের হয়ে বিএনপি বা জামায়াতের পক্ষে কোনো বক্তব্য দেয়, তাহলে কিন্তু আমরা শহীদ ও আহত পরিবারসহ সবাইকে নিয়ে আবার রাজপথে যাব। দুটি দলকে কীভাবে বাধ্য করতে হয়, তা আমরা জানি।’
জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি ‘সংস্কার জোট’ হবে বলেও জানান এনসিপির এই মুখ্য সমন্বয়ক। জোট গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
সভায় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষারসহ জাতীয় শ্রমিক শক্তির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।