বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সংসদীয় আসনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয় কোতোয়ালি-চান্দগাঁও-ডবলমুরিং (চট্টগ্রাম-৯) আসনটিকে। অতীতে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন অনেকেই। আলোচিত এই আসনটিতে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির মনোনয়ন কে পাচ্ছেন তা এখনো রয়ে গেছে রহস্যঘেরা।
দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত হিসেবে নাম ঘোষণার পর স্থগিত করা হলেও এখনো আশা ছাড়েনি আবু সুফিয়ান। চট্টগ্রাম-১০ আসনের মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়া সাঈদ আল নোমানকে বিকল্প হিসেবে এ আসনটি দেওয়া হতে পারে এমন আলোচনাও রয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে। অন্যদিকে, দলের ৩১ দফাসংবলিত লিফলেট বিতরণ থেকে শুরু করে নানা কর্মসূচি নিয়ে নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হওয়া শামসুল আলমের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
গত ৩ নভেম্বর বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের দিন চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী হিসেবে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিভিন্ন টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের বদৌলতে সঙ্গে সঙ্গে তা পৌঁছে যায় নির্বাচনী এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের কাছে। কিন্তু পরে রহস্যজনক কারণে তার মনোনয়ন স্থগিত করা হয়। মনোনয়ন ঘোষণার পর স্থগিত করা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে রয়েছে নানা ধরনের আলোচনা।
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, নগরীর তিনটি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-১০ এ প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান ও চট্টগ্রাম-১১-তে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নির্বাচন করবেন এমন ধারণাই ছিল সবার মাঝে। অন্যদিকে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহকে চট্টগ্রাম-৮ আসনে দিয়ে বিগত নির্বাচনে ওই আসনের বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ানকে চট্টগ্রাম-৯ আসনে প্রার্থী করা হবে দলের দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে এমন আভাসই মিলেছিল। কিন্তু স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করায় অন্য দুটি আসনের হিসেব নিকেশ পাল্টে যায়। যে কারণে আবু সুফিয়ানের নাম ঘোষণার পরও তা স্থগিত রাখা হয়। চট্টগ্রাম-৯ এবং চট্টগ্রাম-১১ আসন দুটিতে কারা বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন তা এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
মনোনয়ন ঘোষণার পর স্থগিত করা হলেও কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসেনি আবু সুফিয়ানের পক্ষ থেকে। বরং প্রতিদিনই বিরামহীনভাবে বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ করে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইছেন তিনি। নিজেকে প্রার্থী হিসেবে পরিচয় না দিলেও প্রার্থীর আমেজেই অনেকটা নির্বাচনী প্রচারে রয়েছেন তিনি।
মনোনয়ন স্থগিতের পরও মাঠে নির্বাচনী প্রচারে থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আবু সুফিয়ান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজপথের একজন কর্মী এটাই আমার বড় পরিচয়। একজন কর্মী হিসেবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ও দলের প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে মাঠে ছিলাম, আছি, থাকব। দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিশ্চয়ই যথাযথ সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে আমি এখনো আশাবাদী।
এদিকে, চট্টগ্রাম-৯ আসনের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মসূচি নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। এ আসন থেকে তিনিও মনোনয়নপ্রত্যাশী। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মহানগর বিএনপির দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে দলের কঠিন সময়ে ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাঠ চাঙ্গা রেখেছি। আওয়ামী নিপীড়ন, পুলিশী নির্যাতন আর হামলা-মামলা মোকাবিলা করেই মাঠে ছিলাম সবসময়, এখনো মাঠে আছি। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নিজের নির্বাচনী আসন (চট্টগ্রাম-৯) থেকে দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশা অবশ্যই করি।
ইতিপূর্বে বিভিন্ন সংসদ নির্বাচনের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ আসন থেকে ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হয়েছিল অধ্যাপক আরিফ মঈনুদ্দিন। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে আবদুল্লাহ আল নোমান ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। এদের মধ্যে অধ্যাপক আরিফ মঈনুদ্দিন বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী ও আবদুল্লাহ আল নোমান পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।