সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনাকে ‘আওয়ামী লীগের তৈরি ট্র্যাজেডি’ অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এই মর্মান্তিক ঘটনার মূল কারণ হিসেবে ভবন মালিকের রাজনৈতিক প্রভাব ও নিয়ম ভাঙার সংস্কৃতিকে দায়ী করেন তিনি।
গতকাল বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব।
শফিকুল আলমের মতে, ভবন ধসের মূল দায়ী ছিলেন ভবন মালিক সোহেল রানা। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সরকারি নিয়ম ও সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করেছিলেন। ভবন ধসের এক দিন আগে প্রকৌশলীরা ভবনটিকে ‘অপরিচালনাযোগ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।
তবুও সোহেল রানা শ্রমিকদের জোর করে ভবনে যেতে বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরোপ্রধান জিম ইয়ার্ডলি রিপোর্টে স্পষ্টভাবে রানা ও তার রাজনৈতিক আশ্রিতদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের ভেতরে সরকারি ও স্থানীয় প্রচারমাধ্যম বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তুলে ধরতে পারেনি।
প্রেস সচিব বলেন, ‘স্থানীয় পত্রিকাগুলো মূলত উদ্ধার অভিযান ও মৃতের সংখ্যা নিয়ে সীমাবদ্ধ থাকতে বলা হয়, যাতে রানা ও তার রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ না পায়। প্রশাসন ও পুলিশও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সরাসরি কিছু করতে পারেনি।’
শফিকুল আলম মন্তব্য করেন, রানা একক কোনো ব্যতিক্রম ছিলেন না। প্রায় ১৬ বছরের শাসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের আশ্রয়ে স্থানীয় ‘দানবপ্রধান’ তৈরি হয়েছে। সোহেল রানা, নিজাম হাজারী ও শামীম ওসমান তাদের নিজ নিজ এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতীক ছিলেন। শিক্ষিত সমাজেও এটি লক্ষ করা যায়, ‘আওয়ামী চেতনা রক্ষার’ নামে মেধাবী ছাত্রদের সহিংস আচরণ এক ধরনের বিষাক্ত আনুগত্যের প্রকাশ।
এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এসব ঘটনা দেশের ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির স্মারক।